প্রিয় হুজুর এবং আমি -১২তম অংশ
- মোমেন চৌধুরী
সেই রাতের প্রতিজ্ঞার পর মনে হলো, সত্যিই আমি একটা নতুন পথের দিকে এগোচ্ছি। কিন্তু এই পথটা কতটা কঠিন, সেটা বুঝতে বেশি দেরি হলো না।
পরদিন সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে পুরনো কয়েকজন বন্ধু দেখা পেয়ে হাসতে হাসতে বলল,
— "কিরে মোমেন! হুজুর হুজুর ভাব ধরছিস নাকি? আগে তো এত ভালো হয়ে যাওয়ার কথা বলতিস না!"
— "হাহাহা! একটু দিন যাক, আবার আগের মতো হয়ে যাবি!"
আমি চুপ করে থাকলাম। মনে হচ্ছিল, কিছু একটা বলি, তাদের বোঝাই যে আমি সত্যিই বদলাতে চাই। কিন্তু হুজুরের কথা মনে পড়ল— "ভালো কাজ করতে গেলে পরীক্ষা আসবেই, আর যারা সত্যিকার মুমিন, তারা এসব কথা নিয়ে ভাবেনা।"
আমি শুধু মৃদু হেসে বললাম, "ভাই, আমি বদলানোর চেষ্টা করছি। তোমরা চাইলে আমার সাথে চলো, নাহলে অন্তত নিরুৎসাহিত কোরো না।"
বন্ধুরা অবাক হয়ে গেল। হয়তো তারা ভাবেনি, আমি এভাবে বলবো। কেউ কিছু বলল না, আমি চলে এলাম।
হুজুরের পরামর্শ
মাদ্রাসায় গিয়ে হুজুরকে সব বললাম। তিনি শান্তভাবে শুনলেন, তারপর বললেন,
"মোমেন, যারা আল্লাহর পথে হাঁটে, তাদের জীবনেই এই ধরনের কষ্টকর মুহূর্ত আসে। নবিজি (সা.)-কেও তো মক্কার লোকেরা উপহাস করত, তাই না?"
আমি মাথা নাড়লাম।
"যদি মানুষ তোমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে, তাহলে মনে রাখবে— তারা তোমার জন্য জান্নাতের দরজা খুলবে না, বরং আল্লাহই খুলবেন। তাই কার সন্তুষ্টি চাইবে?"
আমি চুপ করে থাকলাম, তারপর আস্তে করে বললাম,"শুধু আল্লাহর।"
হুজুর হাসলেন, "তাহলে মানুষের কথায় কান দিও না। চেষ্টা চালিয়ে যাও, একদিন ওরাই তোমাকে দেখে বদলাবে।"
আমি সেই মুহূর্তে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিলাম—
"আমি কারও কথায় মন ভাঙবো না, আমার পরিবর্তন আল্লাহর জন্য।"
সত্যিই, যারা আল্লাহর পথে হাঁটে, তাদের জন্য পৃথিবীটা সহজ নয়। কিন্তু আমি জানি, যদি ধৈর্য রাখি, একদিন এই পথটাই আমাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে।
চোখ বন্ধ করলাম। মনে হলো, আল্লাহ আমার এই প্রতিজ্ঞার সাক্ষী হয়ে গেলেন…
(চলবে…)
১০-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।