প্রিয় হুজুর এবং আমি -১৩তম অংশ
- মোমেন চৌধুরী

সেদিনের পর থেকে আমি আর মানুষের কথায় কান দেই না। কেউ হাসুক, কেউ ব্যঙ্গ করুক— আমি জানি, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বদলাতে চাই। কিন্তু এই পথটা এত সহজ নয়, সেটা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারলাম একদিন বিকেলে…

নফসের সঙ্গে লড়াই

বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়েছিলাম। খেলার মাঝেই একজন হঠাৎ রেগে গিয়ে আমাকে অপমান করল। কিছু একটা বললাম মাত্র, সে আরও রেগে গেল। বাকিরাও ওর সঙ্গ দিল।

রাগে আমার শরীর কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল, আমিও চিৎকার করে কিছু বলি, তাদের জবাব দেই। কিন্তু ঠিক তখনই মনে পড়ল—

"প্রকৃত মুমিন রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানে।"

আমি গভীর শ্বাস নিলাম। কিছু না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলাম।

বন্ধুরা অবাক হয়ে গেল!

— "কিরে, কিছু বলছিস না কেন? তুই তো আগে এমন ছিলি না!"

আমি মৃদু হাসলাম, বললাম, "আমি আর আগের মতো হতে চাই না। রাগ করে তো কেউ বড় মানুষ হয় না, তাই না?"

ওরা নির্বাক হয়ে গেল। কেউ কিছু বলল না, আমি চলে এলাম।

কিন্তু মনটা খারাপ লাগছিল। কেন জানি মনে হচ্ছিল, আমি দুর্বল হয়ে যাচ্ছি।

হুজুরের শিক্ষা

সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় গিয়ে হুজুরকে সব বললাম। তিনি শুনে মৃদু হাসলেন,

"মোমেন, তুমি কি জানো, রাগকে নিয়ন্ত্রণ করা দুর্বলতা নয়, বরং এটা সবচেয়ে বড় শক্তি?"

আমি অবাক হলাম, "কিন্তু হুজুর, সবাই তো ভাবে, যে জবাব দিতে পারে না, সে দুর্বল!"

হুজুর বললেন, "নবিজি (সা.) বলেছেন— ‘সবচেয়ে শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ তুমি কি জানো, আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন, তাদের একটি গুণ কী?"

আমি মাথা নাড়লাম।

তিনি বললেন, "আল্লাহ কুরআনে বলেছেন— ‘যারা রাগ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।’ (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪)"

আমি বিস্মিত হলাম। সত্যিই, আমি কি মানুষের বাহবা পাওয়ার জন্য ভালো হচ্ছি, নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য?

হুজুর বললেন, "মোমেন, তুমি আজ এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছো। তোমার নফস তোমাকে রাগাতে চেয়েছিল, কিন্তু তুমি জিতেছো। এটা ছোট ব্যাপার নয়!"

আমি ভাবলাম, সত্যিই তো! আমি যদি প্রতিদিন এভাবে নিজের নফসকে পরাজিত করতে পারি, তাহলে একদিন সত্যিকারের মুমিন হয়ে উঠতে পারবো।

সেদিন রাতে নিজের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করলাম—

"আমি শুধু বাহ্যিক ভালো কাজ করবো না, বরং নিজের ভেতরটাকেও পরিবর্তন করবো। আমি হবো সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন।"

চোখ বন্ধ করলাম। মনে হলো, আল্লাহ আমার এই প্রতিজ্ঞার সাক্ষী হয়ে গেলেন…

(চলবে…)


১০-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।