প্রিয় হুজুর এবং আমি -১৫তম অংশ
- মোমেন চৌধুরী

সেদিনের পর থেকে বুঝতে পারলাম, নফসের সঙ্গে লড়াই শুধু একদিনের বিষয় নয়— এটা প্রতিদিনের পরীক্ষা। কখনো রাগ, কখনো অভিমান, কখনো লোভ, কখনো বা মানুষের কথার তির… প্রতিবারই নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হয়, "আমি কাকে খুশি করতে চাই?"

একটি কঠিন মুহূর্ত

একদিন মাদ্রাসা শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ রাস্তায় পরিচিত এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। তিনি আমাকে আগে চিনতেন, যখন আমি অন্যদের মতো ছিলাম— মজা করতাম, তর্ক করতাম, রেগে যেতাম।

তিনি একটু তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললেন, "কিরে, এখন অনেক বড় আলেম হয়ে গেছিস নাকি?"

আমি শান্ত কণ্ঠে বললাম, "না ভাই, আমি শুধু ভালো হতে চাই।"

— "ভালো হতে চাই? আগে তো আমাদের সঙ্গেই ছিলি! এখন এত ধার্মিক হয়ে গেলি যে পুরোনো বন্ধুদের ভুলে গেছিস?"

আমি চুপ করে ছিলাম। সত্যিই তো, আমি কি সবাইকে ভুলে গেছি?

আমি মৃদু হাসলাম, "ভুলিনি ভাই, শুধু পথটা বদলে গেছে।"

তিনি কিছুটা থমকে গেলেন, কিন্তু তবুও বললেন, "দেখ, এত ভালো হতে যাস না, মানুষ পছন্দ করবে না!"

আমি হেসে বললাম, "মানুষ না করুক, আল্লাহ যেন আমাকে পছন্দ করেন, সেটাই যথেষ্ট।"

তিনি আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন, তারপর আস্তে করে বললেন, "দেখি, কতদূর যেতে পারিস!"

হুজুরের শিক্ষা

সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় গিয়ে হুজুরকে সব বললাম।

হুজুর আমার কাঁধে হাত রেখে বললেন, "মোমেন, তুমি বুঝতে পারছো তো, ভালো হতে গেলে সবাই বাহবা দেবে না? বরং অনেকেই তোমাকে বাঁধা দেবে।"

আমি মাথা নাড়লাম, "কিন্তু কেন হুজুর? মানুষ তো ভালো মানুষকেই পছন্দ করার কথা!"

হুজুর হাসলেন, "হ্যাঁ, কিন্তু সবাই নয়। কারণ তুমি যখন ভালো হওয়ার চেষ্টা করো, তখন অনেকেই নিজেদের দোষ গোপন করতে না পেরে অস্বস্তিতে পড়ে। তারা তোমাকে বদলাতে বাধা দেবে, কারণ তারা নিজেরা বদলাতে চায় না।"

আমি গভীরভাবে ভাবতে লাগলাম। সত্যিই তো, পরিবর্তন শুধু নিজের জন্য নয়, আশপাশের মানুষদেরও প্রভাবিত করে।

হুজুর আরও বললেন, "তুমি শুধু নিজের দিকে তাকাও, মানুষ কী বলল তাতে কান দিও না। মনে রেখো, রাসুল (সা.) যখন মানুষকে সত্যের পথে ডাকতেন, তখন তিনিও উপহাসের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কি থেমে গিয়েছিলেন?"

আমি মাথা নাড়লাম, "না, তিনি ধৈর্য ধরেছিলেন।"

হুজুর বললেন, "তুমিও তাই করো। আল্লাহ তোমার পথ সহজ করে দেবেন।"
আরেকটি জয়

পরদিন আবার একটি পরীক্ষা এলো। এক বন্ধু এসে বলল, "তুই এখন এত ভালো হয়ে গেছিস, আমরা তোকে আর আগের মতো মজা করতে দেখতে পাই না!"

আমি হেসে বললাম, "ভালো হওয়া মানে কি মজা বন্ধ করা?"

সে চুপ করে গেল।

আমি যোগ করলাম, "আগে মজা করতাম মানুষের ক্ষতি করে, এখন করি আল্লাহকে খুশি রেখে।"

সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল, তারপর বলল, "ভাই, তোর কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমাকেও ভাবতে হবে…"

আমি মনে মনে হাসলাম। সত্যিই, আমি বদলেছি, আর আমার পরিবর্তন ধীরে ধীরে অন্যদের ছুঁয়ে যেতে শুরু করেছে…

চলবে


১১-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।