প্রিয় হুজুর এবং আমি -১৬তম অংশ
- মোমেন চৌধুরী

জীবনে প্রথমবার মনে হচ্ছিল, আমি শুধু নিজেই বদলাচ্ছি না, আমার পরিবর্তন আশেপাশের মানুষদেরও ভাবতে বাধ্য করছে। কিন্তু সত্যের পথে হাঁটতে গিয়ে পথটা এত সহজ হবে, সেটা কখনো ভাবিনি…

অপমানের আরেকটি পরীক্ষা

একদিন মাদ্রাসা থেকে বের হচ্ছিলাম, হঠাৎ পেছন থেকে পরিচিত কিছু ছেলের হাসির শব্দ কানে এলো।

— "এই যে মোল্লা মিয়া, কই যাচ্ছো? নামাজ পড়তে না মাদ্রাসায় থাকতে?"

আমি কিছু না বলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, তখনই একজন বলল, "আগে যেমন ছিলি, তেমনই থাকলে না! এখন দেখি একদম বুজুর্গ হয়ে গেছিস!"

আমার নফস গর্জে উঠল— "উত্তর দাও! কেন সহ্য করবে?"

কিন্তু মনে পড়ল নবিজির (সা.) শিক্ষা— "যখন মূর্খরা তোমার সঙ্গে তর্ক করে, তখন বলো— সালাম।" (সূরা আল-ফুরকান: ৬৩)

আমি মৃদু হাসলাম, শান্ত কণ্ঠে বললাম, "আসসালামু আলাইকুম।"

ওরা চমকে গেল! কেউ কিছু বলল না, শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

আমি আর কিছু না বলে চলে এলাম।

কিন্তু বুকের মধ্যে কেমন যেন একটা কষ্ট হচ্ছিল। এরা তো একসময় আমার বন্ধু ছিল… তাহলে আজ এত বিদ্রুপ কেন?

হুজুরের সান্ত্বনা

সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় গিয়ে হুজুরকে সব বললাম।

তিনি গভীরভাবে শুনলেন, তারপর বললেন, "মোমেন, তুমি জানো, নবিজি (সা.) যখন সত্যের পথে দাঁড়িয়েছিলেন, তখনও মানুষ তাকে নিয়ে উপহাস করেছিল?"

আমি মাথা নাড়লাম।

— "মানুষ প্রথমে যা বোঝে না, তা নিয়ে হাসে। আর যাকে পরাজিত করতে পারে না, তাকে অপমান করতে চায়। কিন্তু তুমি যদি ধৈর্য ধরে থাকতে পারো, একদিন তারাই তোমার কাছে এসে বলবে— 'তুমি ঠিক ছিলে'।"

আমি গভীর শ্বাস নিলাম। সত্যিই তো, আমি যদি সত্যের পথে থাকি, তাহলে অন্যদের কথায় কষ্ট পেলে চলবে না।

একজন অপ্রত্যাশিত বন্ধু

পরদিন দুপুরে হঠাৎই একজন পরিচিত ছেলে আমাকে ডেকে বলল, "কিরে, তুই আসলে বদলে গেছিস? নাকি লোক দেখানো ভালো হওয়া?"

আমি হেসে বললাম, "ভাই, মানুষকে দেখানোর জন্য কিছু করলে তো মনে শান্তি থাকার কথা না। কিন্তু আমি আল্লাহর জন্য বদলাচ্ছি, তাই শান্তি পাচ্ছি।"

সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল, তারপর বলল, "তুই কি মনে করিস, তোর এই বদলে যাওয়া আসলেই ঠিক কাজ?"

আমি বললাম, "মানুষের কথা নয়, আল্লাহ কী চান— সেটাই গুরুত্বপূর্ণ, তাই না?"

সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, "তোকে দেখে আমারও মাঝে মাঝে মনে হয়, আমিও একটু বদলাই…"

আমি বিস্মিত হলাম!

একসময়ের যারা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করত, তাদের একজন নিজেই বদলানোর কথা ভাবছে!

আলোর পথে হাঁটা

সেদিন রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, "আমি তো শুধু নিজের জন্য বদলাচ্ছিলাম, কিন্তু আমার পরিবর্তন যদি অন্যদেরও প্রভাবিত করে, তাহলে এটাই কি সবচেয়ে বড় সফলতা নয়?"

আমি চোখ বন্ধ করলাম।

হৃদয়ের গভীর থেকে একটা প্রার্থনা এল—

"হে আল্লাহ, তুমি আমাকে সত্যের পথে দৃঢ় রাখো। আমাকে এমন বানিয়ে দাও, যেন আমার পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্যরাও তোমার দিকে ফিরে আসে…"

শান্তির একটা অনুভূতি বুকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল। মনে হলো, আমি সত্যিই সঠিক পথে হাঁটছি…

চলবে…


১১-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।