প্রিয় হুজুর এবং আমি – ২১তম অংশ
- মোমেন চৌধুরী
সত্যের পথে একা নই
সেই রাতের প্রার্থনার পর আমার মনে একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছিল। যেন আমার নিজের পথচলাও অন্য কাউকে জাগিয়ে তুলছে। আমি ভেবেছিলাম, পরিবর্তন শুধু আমার একার ব্যাপার, কিন্তু সত্যের আলো তো কখনো একা থাকে না।
পরদিন সকালে মাদ্রাসায় গেলে হুজুর আমাকে দেখে বললেন, "মোমেন, তুমিই বলো, একজন মানুষ কখন বদলায়?"
আমি একটু ভেবে বললাম, "যখন সে সত্যিকারের উপলব্ধি পায়। যখন তার হৃদয় থেকে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা আসে।"
হুজুর হাসলেন, "ঠিক বলেছো। কিন্তু কখনো কখনো, কেউ হয়তো নিজে বুঝতে পারে না— তার জীবনে এমন একটা মুহূর্ত আসতে পারে, যা তাকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।"
আমি মাথা নাড়লাম। হুজুরের কথা শুনে আমার সেই বন্ধুর কথা মনে পড়ল। সে কি সত্যিই বদলাবে? নাকি শুধু কিছুক্ষণের জন্য আবেগে ভেসে যাচ্ছে?
সেদিন বিকেলে সে আবার এলো। তার চোখে একধরনের দ্বিধা ছিল, কিন্তু সাথে সাথে এক অদ্ভুত প্রশান্তিও।
সে বলল, "মোমেন, আমি সারাদিন ভাবছিলাম… যদি আমি বদলাই, তাহলে কি সবাই আমাকে স্বীকার করবে?"
আমি বললাম, "মানুষ যা-ই বলুক, আল্লাহ জানেন তুই কোন পথে হাঁটছিস। তোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী— মানুষের কথা, নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টি?"
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল, তারপর গভীর শ্বাস নিয়ে বলল, "আমি সত্যিই চেষ্টা করবো।"
আমি হাসলাম। একসময় যে বন্ধু আমার মতোই উচ্ছৃঙ্খল ছিল, আজ সে নিজেই পরিবর্তনের কথা ভাবছে।
প্রথম নামাজ
সন্ধ্যায় আমরা আবার মাদ্রাসায় গেলাম। আজকের দারস ছিল ‘ইখলাস’— অর্থাৎ, অন্তরের বিশুদ্ধতা।
হুজুর বলছিলেন, "যখন কেউ নামাজ পড়ে, তখন সে শুধু বাহ্যিক দিকটাই নয়, তার অন্তরও শুদ্ধ হওয়া দরকার। আমাদের সকল আমল শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য হওয়া উচিত।"
বন্ধুটি গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। নামাজের সময় সে আমার পাশে দাঁড়ালো। আমি তাকিয়ে দেখলাম, তার চোখে একধরনের অস্থিরতা— যেন সে ভাবছে, এই জায়গায় সে ঠিক আছে কিনা।
সাজদায় গিয়ে আমি অনুভব করলাম, কেউ একজন প্রথমবারের মতো আল্লাহর সামনে নত হচ্ছে।
নামাজ শেষে সে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কেমন লাগলো?"
সে আস্তে করে বলল, "অদ্ভুত। মনে হলো, অনেক দিন পর কোথাও শান্তি পেলাম…"
আমি হাসলাম, "এই শান্তিই আসল শান্তি।"
সে কোনো উত্তর দিল না, শুধু দূরের চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকল। আমি জানতাম, আজ রাত থেকে তার জীবনে নতুন এক অধ্যায় শুরু হলো।
১৭-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।