প্রিয় হুজুর এবং আমি -২২তম অংশ
- মোমেন চৌধুরী

নতুন এক যাত্রা

সেদিন রাতের পর বন্ধুর মধ্যে এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখতে পেলাম। আগে সে নামাজের কথা শুনলেই কেমন একটা এড়িয়ে যেত, আর আজ নিজেই আমার পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছে।

পরদিন সকালে সে আমার কাছে এসে বলল, "মোমেন, আমি কি সত্যিই বদলাতে পারবো? যদি মাঝপথে থেমে যাই?"

আমি হাসলাম, "বদলানো কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নয়, এটা একটা চলমান পথ। তুই যদি কখনো পড়ে যাস, আবার উঠে দাঁড়াস। আল্লাহর দরজা সবসময় খোলা।"

সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল, তারপর বলল, "আমি চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।"

সেই মুহূর্তে আমি বুঝলাম, সত্যের পথে কেউ একা নয়। একসময় আমি নিজে পরিবর্তনের জন্য লড়ছিলাম, আর আজ আমার পাশে আরেকজন দাঁড়িয়েছে।

পরীক্ষা শুরু

কিন্তু পরিবর্তনের পথ কখনোই সহজ নয়।

বন্ধুর জীবনে প্রথম বড় পরীক্ষাটা এলো তার পুরনো বন্ধুদের কাছ থেকে। তারা যখন জানল, সে এখন নামাজ পড়ছে, মাদ্রাসায় যাচ্ছে— তখন তাদের মধ্যে কেউ হাসল, কেউ ব্যঙ্গ করল, কেউ অবাক হয়ে গেল।

"তুই? তুই এসব করতে পারিস?"

"যা বলিস! এত ভালো হয়ে গেছিস নাকি?"

"আমাদের সঙ্গ ছেড়ে এখন হুজুর হবি?"

আমি বন্ধুর চোখে দ্বিধা দেখলাম। তার মুখটা ম্লান হয়ে গেল। আমি জানতাম, এই মুহূর্তটা খুব কঠিন। সে একদিকে নতুন পথ বেছে নিয়েছে, কিন্তু অন্যদিকে পুরনো বন্ধুত্ব, অভ্যাস সবকিছু টানছে।

সন্ধ্যায় সে আমার পাশে এসে বসে থাকল, চুপচাপ।

আমি বললাম, "কী ভাবছিস?"

সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, "মানুষের কথা কষ্ট দেয়, মোমেন। আমি কি ভুল করছি?"

আমি বললাম, "একটা জিনিস মনে রাখ, পরিবর্তন কঠিন বলেই এটা মূল্যবান। মানুষের কথা তো সবসময় থাকবে, কিন্তু তোকে ঠিক করতে হবে, তুই কার সন্তুষ্টি চাইছিস— মানুষের, না আল্লাহর?"

সে মাথা নিচু করল, কিছুক্ষণ কিছু বলল না। তারপর ধীরে ধীরে বলল, "আমি সত্যিই আল্লাহকে চাই…"

আমি মৃদু হাসলাম, "তাহলে তোকে দৃঢ় থাকতে হবে। সত্যের পথ সহজ নয়, কিন্তু এটা সবচেয়ে সুন্দর পথ।"

সে মাথা নাড়ল। তার চোখে একধরনের দৃঢ়তা দেখতে পেলাম, যা আগে ছিল না।

আমি জানতাম, আজ সে প্রথমবারের মতো সত্যিকার অর্থে লড়াই করতে শিখল।


১৭-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।