অপূর্ণতার মানচিত্র
- মোমেন চৌধুরী
শৈশবে একদিন মাছরাঙা ধরতে চেয়েছিলাম,
পুকুরপাড়ে ফাঁদ পেতে বসে ছিলাম একলা,
কিন্তু সে ধরা দিল না—শুধু তাকিয়ে রইল
আমগাছের ডাল থেকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে।
সেই দৃষ্টি আমায় তাড়িয়ে বেড়ায় আজও,
তাই কোনো পাখির চোখে আর চোখ রাখিনি কখনো।
কিশোর বিকেলে পাশের বাড়ির বালিকা
ভয়ে কাঁপা হাতে আমার হাতে দিল এক চিঠি,
লুকিয়ে রাখলাম বুক কাঁপিয়ে, পড়তে গিয়ে দেখলাম—
"Love You"—
কিন্তু উত্তর দেওয়ার সাহস হয়নি,
সেই অভিশাপে ভালোবাসাহীন রয়ে গেলাম আজীবন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহর, রিকশার রাত,
এক সিনিয়র আপুর সাথে ভাগাভাগি করা নীরবতা,
অচানক চন্দ্রাহত হয়ে পেলাম
ভালোবাসাহীন এক দীর্ঘ চুম্বনের স্বাদ,
তারপর তিনিও হারিয়ে গেলেন কুয়াশার মতো,
আর আমার ঠোঁট হয়ে রইল শূন্য—
আর কোনো চুম্বনের স্বাদ পেল না সারা জীবন।
যৌবনে এক নারীর জ্যৈষ্ঠের জল,
তার অজগরের মতো জড়িয়ে ধরা—
"চলো পালিয়ে বিয়ে করি!"
আমি পালালাম, অপেক্ষায় রইলাম,
কিন্তু সে আর এলো না—
কমলাপুর রেল স্টেশনে বসে কাটিয়ে দিলাম
পঁচিশটি দীর্ঘ বছর।
আমি গোসল করিনি, দাড়ি কাটিনি,
কেউ এল না, আমিও নিজেকে হারিয়ে ফেললাম চিরতরে।
আজ পড়ন্ত বয়সে আয়নার সামনে বসে আছি,
গুনছি জীবনের না-পাওয়ার গল্প—
একটা মাছরাঙার তাচ্ছিল্যভরা দৃষ্টি,
একটা চিঠির উত্তর না দেওয়ার শাস্তি,
একটা ভালোবাসাহীন চুম্বনের পাপ,
একটা অপূর্ণ প্রতীক্ষার দীর্ঘশ্বাস।
জন্মের সময় যে মানচিত্রটা বুকে ছিল,
সেটা আমি পড়তে পারিনি কখনো,
তা না হলে হয়তো এত অপূর্ণতার আগুনে
আমি কবেই ছাই হয়ে যেতাম।
২৩-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।