মাধুরীর হারিয়ে যাওয়া হাসি
- মোমেন চৌধুরী

শাহপরান হলের ৪৩৯/ডি রুমে
একটা ছবি ছিল—
মাধুরীর!
একসময়ের ধাক্ ধাক্ নায়িকা,
যে ছিল আমার রাতজাগা পাহারাদার,
আমার নিঃশব্দ সঙ্গী,
আমার একাকীত্বের অদৃশ্য দরজা।

চার বছর আটকে রেখেছিলাম তাকে,
এক মুহূর্তের জন্যও রুমের বাইরে যেতে দিইনি,
আমি ঘুমাতে গেলে সে তাকিয়ে থাকত,
তার ঠোঁটে সেই চিরচেনা হাসি—
একটা বিষমাখা, নেশাধরা, অমোঘ হাসি!

যখনই চোখ বুজত,
সেই হাসির রিমঝিম শব্দে
আমার ঘুম ভেঙে যেত,
মাধুরী জানত না—
আমি কত রাত তার চোখের ভাষা বুঝতে গিয়ে
অবাক বিস্ময়ে কাটিয়ে দিয়েছি।

আজ আটাশ বছর পর ফিরে এসে দেখি—
দেওয়ালের সেই জায়গায় শূন্যতা,
যেন ইতিহাস মুছে গেছে,
তবু খুব ভালোভাবে তাকালে বোঝা যায়,
সেখানে কোনো একসময়
একটা হাসি বাঁধা ছিল!

জানালার ঠিক দক্ষিণে ছিল
একটা ইউক্যালিপটাস গাছ,
তার ডালপালা বেহায়ার মতো জানালা ছুঁয়ে থাকত,
রাতে আমি হাত রাখতাম সেই শাখায়,
মাধুরীর জন্য জমে থাকা
অভিমান, হাহাকার, বিষণ্ণতা
গাছের পাতায় ফিসফিসিয়ে বলতাম।

কিন্তু মাধুরী কিছুই জানত না,
সে শুধু হাসত—
একটা নিখুঁত, নির্মম, মায়াবী হাসি!

আজ সেই গাছও নেই,
নেই জানালার পাশে সেই ছায়া,
শুধু বাতাসের ঝিরঝির শব্দে
আমার পুরনো সব কষ্টেরা ফিরে আসে।

রুমের চার যুবক বিস্মিত চোখে তাকিয়ে,
আমি হঠাৎ বলে উঠলাম—
"মাধুরী কোথায়?"
তারা অবাক হয়ে বলল— "মাধুরী কে?"
আমি হাসলাম, এক নিঃশ্বাসে বলে দিলাম—
"আমার বিশ-একুশের ধাক্ ধাক্ নায়িকা!"

বন্ধু কামরুলকে নিয়ে একদিন ফিরতেই হবে,
৪৩৯/ডি রুমের দেয়ালের ফাঁকা জায়গায়
পুনরায় আঁকতে হবে
হারিয়ে যাওয়া মাধুরীর হাসি!


২৮-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।