গদ্য মৃত্যু -
- মোমেন চৌধুরী
অন্ধকার গভীর, শূন্যতা তীব্র—ওরা পড়ে আছে মাটির স্তব্ধতায়, নিঃশব্দে।
কেউ কাঁদে না, কেউ হাসে না, সময় এখানে গলিত হয় না ঘড়ির কাঁটায়।
তবু আমরা ভাবি, ওরা শুনছে, দেখছে, অনুভব করছে—যেন জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে এক অনন্ত ক্লান্তি ওদের শ্বাসরুদ্ধ করে রেখেছে।
গোরের অন্ধকারে ওরা কি স্মরণ করে আমাদের?
নাকি আমরা নিজেরাই স্মৃতির নাট্যমঞ্চ বানিয়ে ওদের পীড়া দেই?
ওরা কি চায় ফুলের স্তূপ?
ওরা কি চায় বর্ণাঢ্য মোমবাতির মৃদু আলো?
ওরা কি চায় শোকের ভান?
নাকি চায় এমন কিছু, যা অদৃশ্য অথচ বহমান—একটি দোয়া, একটি ক্ষমার প্রার্থনা?
আমরা কাঁদতে জানি, আমরা সাজাতে জানি,
কিন্তু কি জানি ওরা সত্যিই কী চায়?
ফুলের সুবাস কি পৌঁছায় সেই নির্জন গহ্বরে?
নাকি ফুল শুকিয়ে গেলে শুধু মাটির ভার আরেকটু বেড়ে যায়?
সম্মানের নামে ওদের আরও একাকী করে দেই,
একটা দিন ধরে চোখ ভেজাই, তারপর বাকি বছর ভুলে থাকি।
আচ্ছা, ওরা কি কষ্ট পায় আমাদের এই আনুষ্ঠানিকতায়?
কবরের চারপাশে সাজিয়ে রাখা গোলাপগুলো কি ওদের ব্যথার ভার আরো বাড়িয়ে দেয়?
একজন মৃত আত্মা কি অনুভব করতে পারে তার নামে ছিটিয়ে দেওয়া সুগন্ধী জল?
নাকি শুধু অপেক্ষা করে এমন কিছু যা কেবল আকাশের ওপারে পৌঁছাতে পারে—
একটি নিঃশ্বাস থেকে উঠে আসা আন্তরিক দোয়া,
একটি সৎ কর্ম, যা তার নামে উৎসর্গিত?
মৃতরা চুপচাপ শুয়ে থাকে, আর আমরা গায়ে পড়া শোকের কাপড় পরে,
ফুলের বাজার গরম করি,
কবরস্থানে ছবি তুলে স্মৃতির প্রাচীরে ঝুলিয়ে দেই,
কিন্তু ওরা?
ওরা কি সেই ছবির ফ্রেমের মধ্যেও বাস করে?
নাকি আমাদের অহেতুক সম্মাননাকে বোঝা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে?
একটা ফুলের বদলে যদি একটা ক্ষুধার্ত পেটে খাবার দিতাম,
একটা মোমবাতির বদলে যদি অন্ধকারে কাউকে আলো দিতাম,
একটা শোকের ভাষণের বদলে যদি হাত তুলে বলতাম—
“হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করো, তাকে শান্তি দাও।”
শুধু তাই পারে ওদের শূন্য বুকের ভার হালকা করতে,
শুধু তাই পারে ওদের নিঃসঙ্গ আত্মায় পৌঁছাতে।
তবুও, আমরা বুঝি না—শুধু ফুল সাজিয়ে কষ্ট বাড়াই,
শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালন করি, কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসার পথ ভুলে যাই।
২০২২-দীর্ঘ দুটি গল্প লেখার পর আমি এই গতটি লেখা শুরু করেছিলাম, কেমন হয়েছে জানাবে। আমি ধন্যবাদ জানাই আমার সম্পূর্ণ টিমকে যারা আমাকে সকল ক্ষেত্রে সাহায্য কর।
০৭-০৩-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।