মহাকাশযুদ্ধ মহাকাব্য-পর্ব – ২
- মোমেন চৌধুরী

মোমেন বিস্ময়ে স্থির হয়ে গেল। তার কল্পনার আরিয়া, যে শুধু একটা চিত্রকর্মের মধ্যে বন্দী ছিল, সে কি করে বাস্তবে তার সামনে এসে দাঁড়াল? বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায়, গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি যেন এক স্বপ্নের বাস্তব রূপ।

— তুমিই কি… আরিয়া? মোমেন প্রায় ফিসফিস করে বলল।

মেয়েটি মুচকি হাসল, ঠিক যেমনটা সে কল্পনা করেছিল। চোখের তারায় লুকিয়ে থাকা রহস্য যেন চিত্রকর্মের মেয়েটির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

— তুমি কি আমার কথা জানো? মোমেন আরেক ধাপ এগিয়ে প্রশ্ন করল।

— "হয়তো জানি, হয়তো জানি না।" মেয়েটির কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত সুর, যেন মোমেনের কল্পনারই প্রতিধ্বনি।

তারপর তারা ধীরে ধীরে কথা বলতে শুরু করল। মোমেন বুঝতে পারল, মেয়েটির নাম সত্যিই আরিয়া, এবং সে একজন চিত্রশিল্পী। কিন্তু সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ছিল— সে নিজেই জানত না, কীভাবে তার চিত্রকর্মটি পার্কে এসেছিল!

— "আমি এই ছবি কখনো পার্কে ঝুলিয়ে রাখিনি," আরিয়া বলল। "আমার আঁকা হলেও, আমি জানি না কে এটি এনেছে!"

এই তথ্য শুনে মোমেনের শরীরে কাঁপুনি ধরে গেল। তবে কি এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা? নাকি কেউ ইচ্ছা করেই মোমেনকে এবং তার কল্পনার প্রেমকে বাস্তবে নিয়ে আসতে চেয়েছিল?

রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে…

পরদিন মোমেন আর আরিয়া আবার পার্কে দেখা করল। তারা ছবিটি খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নিল, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সেটির কোনো হদিস পাওয়া গেল না। পার্কের এক বৃদ্ধ লোককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন—

— "ছবিটা? ওহ, এটা তো বহু বছর আগে একজন শিল্পী এঁকেছিল, কিন্তু সে নিজে নিখোঁজ হয়ে গেছে!"

মোমেন এবং আরিয়া অবাক হয়ে গেল। তবে কি ছবিটি কোনো অতীতের রহস্য বয়ে নিয়ে এসেছে?

ভালোবাসা, রহস্য আর সময়ের খেলা…

যত বেশি মোমেন আর আরিয়া একসঙ্গে সময় কাটাতে লাগল, ততই তাদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকল। কিন্তু একদিন, একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটল।

এক অচেনা নাম্বার থেকে মোমেনের ফোনে একটি বার্তা এলো—

"তুমি কি সত্যিই ভাবছো, তোমার কল্পনার ভালোবাসা শুধু কল্পনাতেই ছিল?*

মোমেন থমকে গেল। কার বার্তা এটি? আরিয়া কি সত্যিই বাস্তব, নাকি সে শুধুই তার কল্পনার রূপান্তর?

-প্রথম অংশ পাবেন (Unique Devil)ফেসবুক পেজে।


২০-০৩-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।