মহাকাশযুদ্ধ মহাকাব্য-পর্ব – ৬
- মোমেন চৌধুরী
মোমেনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবসিডিয়ান শুধুই এক শত্রু নয়—সে এক সম্ভাব্য ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি।
"তুমি যদি আমাকে হারাতে চাও, তবে প্রথমে নিজের দুর্বলতাকে জয় করো!"
অবসিডিয়ানের চোখ জ্বলজ্বল করছিল, যেন মহাবিশ্বের সমস্ত অন্ধকার সেখানে জমা হয়েছে।
ভালোবাসা বনাম শক্তি
মোমেনের ভেতর দ্বন্দ্ব চলছিল।
"আমি যদি একদিন সত্যিই অবসিডিয়ানের মতো হয়ে যাই?"
তার হৃদয়ের গভীরে এক ভয় বাসা বাঁধছিল। অবসিডিয়ানের কথা সত্যি হয়ে গেলে? যদি কোনো দিন সে সত্যিই আরিয়াকে হারায়?
কিন্তু ঠিক তখনই আরিয়া তার হাত শক্ত করে চেপে ধরল।
— "শোনো মোমেন, আমরা নিজের ভবিষ্যৎ নিজেরাই লিখি। আমাদের ভাগ্য পূর্বনির্ধারিত নয়!"
মোমেন আরিয়ার চোখের দিকে তাকাল। সেখানে ভয় নেই, শুধু বিশ্বাস!
অবসিডিয়ানের দুর্বলতা
— "অবসিডিয়ান ভালোবাসাকে ধ্বংস করতে চায়, কারণ সে ভালোবাসার শক্তিকে ভয় পায়!"
আরিয়া বুঝতে পারল, অবসিডিয়ানের অস্তিত্বই নির্ভর করে মানুষের অন্ধকার অনুভূতির ওপর।
যদি তারা একসঙ্গে অবসিডিয়ানের আবেগ-শোষণ ক্ষমতা নষ্ট করতে পারে, তবে সে দুর্বল হয়ে পড়বে!
— "আমাদের ওর সোল-ড্রাইভ ধ্বংস করতে হবে!"
সোল-ড্রাইভ ছিল অবসিডিয়ানের হৃদয়—যেখানে সে সব আবেগ শোষণ করে নিজের শক্তি বাড়ায়।
চূড়ান্ত যুদ্ধের শুরু
মোমেন ও আরিয়া দ্রুত অবসিডিয়ানের মূল জাহাজের দিকে এগোল। বিশাল রোবট সৈন্যদের সঙ্গে ভয়ংকর যুদ্ধ শুরু হলো!
মোমেন একে একে শত্রুদের ধ্বংস করছিল, আর আরিয়া নিজের প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবসিডিয়ানের সোল-ড্রাইভের অবস্থান খুঁজে বের করছিল।
ঠিক তখনই, অবসিডিয়ান নিজেই সামনে এল!
— "তোমরা সত্যিই কি ভাবছো, আমাকে থামাতে পারবে?"
তার দেহ থেকে তীব্র শক্তির তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ল, যা মহাশূন্য কাঁপিয়ে তুলল!
কিন্তু তখনই মোমেন আর আরিয়া একসঙ্গে চিৎকার করল—
"ভালোবাসার শক্তি কখনো ধ্বংস হয় না!"
তারা একসঙ্গে অবসিডিয়ানের সোল-ড্রাইভের কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত করল!
কী হবে অবসিডিয়ানের পরিণতি?
অবসিডিয়ান চিৎকার করে উঠল। তার শক্তি ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছিল!
সে কি চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি সে আবার ফিরে আসবে আরও শক্তিশালী হয়ে?**
চলবে…
বিশেষ দ্রষ্টব্য :-
অবসিডিয়ানের উৎপত্তি ও তার রহস্য
অবসিডিয়ান কোনো সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়—এটি সৃষ্টি হয়েছে এক গভীর ষড়যন্ত্রের ফলে, যেখানে সময়, প্রেম, এবং প্রযুক্তি একসঙ্গে জড়িত!
১. অবসিডিয়ানের সৃষ্টি:
অনেক বছর আগে, জারা গ্রহের বিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ প্রযুক্তি তৈরি করেছিল, যা মানুষের আবেগকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারত। এই প্রযুক্তির নাম ছিল "সোল-ড্রাইভ"। এটি মানুষের ভালোবাসা, দুঃখ, ও স্মৃতিকে সংরক্ষণ করতে পারত এবং তা থেকে বিশুদ্ধ শক্তি উৎপন্ন করত।
কিন্তু একদিন, বিজ্ঞানীদের একটি ভুলের কারণে একটি বিকৃত অস্তিত্ব জন্ম নেয়—অবসিডিয়ান! এটি এমন এক কৃত্রিম সত্তা, যা মানুষের আবেগ শোষণ করে নিজের শক্তি বাড়ায়, বিশেষ করে দুঃখ ও কষ্ট!
২. অবসিডিয়ানের কাজ কী?
অবসিডিয়ানের উদ্দেশ্য হলো মহাবিশ্ব থেকে "ভালোবাসা" মুছে ফেলা। সে বিশ্বাস করে, প্রেম দুর্বলতা, আর "শক্তিই একমাত্র সত্য"!
তাই সে শুধু শারীরিক যুদ্ধ করে না, বরং মানুষের মন ও হৃদয়ের ভেতরেও লড়াই করে। যে কেউ দুঃখ ও হতাশায় নিমজ্জিত হয়, অবসিডিয়ান তার আবেগ শোষণ করে তাকে ধীরে ধীরে এক দানবে পরিণত করে।
৩. কেন মোমেনের সামনে অবসিডিয়ান এল?
অবসিডিয়ান জানত, মোমেনের হৃদয়ে ভালোবাসার অসীম শক্তি আছে।সে জানত, মোমেন এবং আরিয়া একসঙ্গে থাকলে তারা মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হবে—যা অবসিডিয়ান ধ্বংস করতে চায়!
এছাড়াও, অবসিডিয়ান এমন এক ভবিষ্যতের ছায়া দেখিয়েছে যেখানে মোমেন নিজেই তার ভালোবাসা হারিয়ে, ঘৃণা ও প্রতিশোধের শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে!
অবসিডিয়ান আসলে মোমেনকেই প্রলুব্ধ করতে চায়—
"ভালোবাসা একদিন ভেঙে পড়ে। আর যখন তা হয়, তখন মানুষই দানবে পরিণত হয়!"
এখন প্রশ্ন হলো, মোমেন কি এই অন্ধকার ভবিষ্যৎকে প্রতিহত করতে পারবে? নাকি সে সত্যিই অবসিডিয়ানের ফাঁদে পড়ে নিজের ভালোবাসা হারিয়ে ফেলবে?
তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো!
২০-০৩-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।