মহাকাশযুদ্ধ মহাকাব্য-পর্ব – ৭
- মোমেন চৌধুরী

অবসিডিয়ান ধ্বংসের শেষ মুহূর্তে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল।
তার চিৎকার ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল মহাশূন্যের নিঃস্তব্ধতায়।

মোমেন হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
— "এটাই কি শেষ?"

আরিয়া কিছু না বলে মহাকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল। হঠাৎ তার চোখে ভয় জেগে উঠল।

"না, এটা কেবল শুরু..."

হৃদয়বিদারক প্রকাশ
সোল-ড্রাইভ ধ্বংস হলেও, তার ভেতর থেকে ছড়িয়ে পড়ল এক রহস্যময় কোডেড সিগন্যাল।

আরিয়া সঙ্গে সঙ্গে তার ইন্টেলিজেন্ট ডিভাইস দিয়ে ডেটা বিশ্লেষণ করতে লাগল।

— "এই সংকেত কোনো যান্ত্রিক উৎস থেকে আসেনি, এটা… জীবন্ত চেতনার! অবসিডিয়ান কারো দ্বারা চালিত হচ্ছিল!"

মোমেন বিস্ময়ে তাকাল।
— "তবে কি অবসিডিয়ান কেবল এক পুতুল? কে ছিল পেছনে?"

তাদের সামনে হঠাৎ মহাশূন্যে ফেটে পড়ল এক গ্যালাকটিক পোর্টাল।
আর তার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ভেসে এল এক রহস্যময় অবয়ব—
সে ছিল আংশিক আলো, আংশিক ছায়া। তার নাম…

"এথেরিয়ন"** — মহাবিশ্বের আদিযুদ্ধের সাক্ষী, এক প্রাচীন সত্তা।
সে বলল—

— "তোমরা ভাবছো ভালোবাসা জয়ী হয়েছে?
ভালোবাসা নিজেই এক শাস্তি… কারণ তাতে থাকে ভয়, প্রত্যাশা, আর… ত্যাগ।
তোমরা কি প্রস্তুত সেই ত্যাগের জন্য?"
আরিয়া কাঁপতে কাঁপতে মোমেনের হাত ধরল।
মোমেন চোখ বন্ধ করে বলল, "প্রেমের জন্য আমি শেষ শ্বাস পর্যন্ত লড়ব।"

এথেরিয়ন হেসে উঠল।
তার শরীর থেকে বের হল এক অশুভ কুয়াশা, যা ছড়িয়ে পড়তে লাগল মহাকাশ জুড়ে।

নতুন যুদ্ধের সূচনা
এথেরিয়নের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তেই একের পর এক গ্রহে ছড়িয়ে পড়ল বিদ্রোহ।
যেসব প্রাণী একসময় ভালোবাসায় বিশ্বাস করত, তারা এখন বিষে ভরে গেছে।

আরিয়া বলল—
— "আমাদের এবার শুধুই যুদ্ধ নয়, বিশ্বাসকে বাঁচাতে হবে।"


০৭-০৪-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।