অসহায়ত্ব
- কেয়ন ইমরান
নষ্ট পৃথিবীতে কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি।
এ পৃথিবীর নিয়ম-শৃঙ্খল সব একতরফা,
জীবন চলছে দুঃস্বপ্নের ন্যায় বড্ড মিছামিছি।
বদ্ধ করতে আমায় চলবে কত দফা!
আমাকে নিস্তেজ করতে পৃথিবীর সূর্য নিলাম!
চাঁদের মাটিও বিক্রি করছে- ওরা ক্ষমতাবান!
সিক্ত চোখে চেয়ে দেখি মম বদনাম।
সত্য পৃথিবীর বুকে কবর- তৈরি মহাশ্মশান!
দিকে দিকে মিথ্যা হয়েছে পাহাড় সম,
ন্যায়-ইনসাফ ক্ষুদ্র প্রাণী- ওরা হায়েনা!
আমার দেহের ভিতরে শুধু জীবন্ত দম,
অনাহারে অসাড় ইন্দ্রিয় আর চলে না।
অমরাবতীর নিষিদ্ধ বৃক্ষের বীজ এই পৃথিবীতে
বপন করল কে? অসহায়ের অসহায়ত্ব দানে?
সওদা করে ক্ষমতাবান অসহায়ত্ব দিনে-রাতে,
আপন মস্তক নোয়ায় সওদাগর বিশ্বের দোকানে।
বিশ্ব করেছে বধ তুচ্ছ ক্ষমতার বলে।
আপনারে পীড়া দিবে যবে অসহায়ের অসহায়ত্ব-
সেদিন থাকবে কোথায়, বল কোন অন্তরালে?
দেখাবে খোদা অসহায়ের সম্মুখে তব কৃতিত্ব।
অসহায়ত্ব দেখে তব খুব হাসি পায়,
নিথর দেহ ধূলোয় লুটোপুটি খায় যবে!
গ্রীষ্মের দাবদাহে কুয়োর জল যবে শুকায়
তখন তৃষ্ণার ঠাণ্ডা জলের প্রয়োজন হবে।
অসহায়ের অসহায়ত্ব কত যে নিষ্ঠুর, ভয়ংকর
যবে মুখোমুখি হবে বুঝবে ওগো ক্ষমতাসীন।
এক চিলতে দানা অসহায়ের তরে মহাবর।
বিবেক জাগ্রত কর জমিয় না ঋণ।
শীতের অনুভূতি তাকে জিগাও- পাবে জবাব,
গরম বস্ত্র ছাড়া থাকে যে অধম।
বাদ দাও তব যত বিলাসী খা’ব,
প্রতিষ্ঠা কর পৃথিবীর বুকে অধিকার সম।
অসহায়ের অসহায়ত্ব কবর দাও অহংকারী বসনে,
জড়িয়ে নাও আপন মায়ায় অসহায় জনে।
পৃথিবীর ক্ষমতা ঈশ্বরের দান- ফেল, বানে
ভাসিয়ে দাও পাপ, গহীন স্রোতের টানে।
০৭-০৪-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।