বিবেকের ডানায়
- রবিউল ইসলাম রাতুল
সেদিন বিকেলে ঘরে
বসে একা একা ভাবি একমনে জানালার পাশে,
ছোট্ট পাখি চড়ুই এলো উড়ে
দেখতে লাগলো ভালো তবে কি যেন আমায় বলতেছে।
বুঝি না তার ধীর আওয়াজ
একটু বাড়িয়ে দিলাম কান শুনতে তার বাণী,
কথা গুলো লাগতেছে পরিষ্কার
যেন সে বলতেছে আমায় কিছু কাহিনী।
" কি হবে তবে নিরলস ভালো মানুষ সেজে?
যখন নিজেই সান্ত্বনার জন্যে পাবে না কাউকে খুঁজে।"
চড়ুই পাখির কথা না বুঝে আমি বললাম তাকে ফিরে,
" কি বলো হে ছোট্ট পাখি?বলো একটু বুঝিয়ে।"
তারপর পাখি শান্ত হয়ে শুরু করলো বলা,
" তুমি বড় আবেগি মানব,পারো না নিতেই নিজ খোঁজ,
তবে কেন প্রহরে আত্মের বেলায় আবেগকে করো কোঁজ?"
আমি এবার চেতন হলাম, পাখির দিকে মুখ ঘুরলাম,
তবে দেখি সে আমার তরে আকুল হয়ে দিবে বাণীর স্লোগান,
আমি এবার জানালার বাহিরে ফিরে তাকালাম,বললাম,
" কি বলবে আমায়, বলে ফেলো নিজে,এটা কাললাম।"
পাখি যেন নিরস হয়ে, বুঝো বুঝো ভাবে শুরু করে বাণী,
" তুমি তো ছিলে না এমন,তবে মনে কেন এতো গ্লানি?
আমি এসেছি, তোমার ভিতর থেকে,শুধু তোমার তরে,
তুমি যেন ধীরে ধীরে ভিতরে ভিতরে যাচ্ছো মরে।"
আমি পাখির দিকে করুণ ভাবে তাকিয়ে বলি,
" কিহ! এসেছো আমার ভেতর থেকে?তবে-
বলে দাও কেন আমার অন্তঃ জুড়ে এতো গ্লানি? "
পাখি এবার বলে,নিজে মৃদু কন্ঠ দিয়ে,
" তুমি বড্ড আবেগ প্রবাহ জীবনে করছো বাস,
বিবেক যেন মোর্চা গেছে,তোমার আবেগ দিয়েছে ঠাস।"
" তবে আমি কি করবো? পারি না বিবেককে দিতে কাজ,
নিজ নিজ জ্ঞানে,আবেগ এসে আমার ভিতর করছে রাজ।
আমি চেয়েও পারি না... " এ বলাই আমার পাখি কাছে।
পাখি এবার হেসে বলে,
" তবে আবেগ কে দিয়েছো নিজ মনে প্রশ্রয়,
তবে তাও ভাবেলে না পাখি কেমনে কথা কয়?"
এবার আমি নড়ে বসে অবাক ভাবে ভাবি," আরে..
আসলে তো পাখি কেমনে কয় কথা আমার তরে?
আমি এবার বলি," কে তুমি পাখি কিভাবে বলো কথা?"
পাখি এবার হেসে বলে," এখন মাথায় আসলো এ ব্যথা?
তবে শোনো,তোমার আবেগ কে আটকে থাকতে পারে,
তোমারা কাছ থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীর হাত ধরে...।"
এ বলে পাখি উড়াল দিতে চায়-
আমি বলি," তাহলে কে তুমি,হে চড়ুই পাখি?"
পাখি উড়াল দিতে দিতে বলে,
" যে তোমার থাকে আবেগের ঊর্ধে
তোমার ভিতরের চক্ষু দেয় খুলে
আমি তোমার সে বিবেক, থাকবো তোমার আদলে।"
০২-০৫-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।