হলদেডাঙা ঘোমটা
- আশরাফুন নাহার

ডোবায় ডুবে বগার ছা বাঁশের কঞ্চি গলা বগা খুঁজে পুঁটির পনার ঝাঁক,
আখের ছোবড়া কামড়ে উপড়ে শেয়ালমামার বেসুরা হাঁক।

মাছরাঙার মাছেরধ্যান নড়িস না রে ঢেও পানি,
শিং লুকায় কাদার গাদায় মাগুরপনার গোঁফ টানি।

আটাশধান আর মসুরডাল হলদেফুল সরষে বাটা-
হলদেডাঙার ঘোমটা খুলে রোদসোনালির সন্ধি আঁটা।

আর কিছু দূর কাঠঠোকরার ঠোঁটকুঠার ঠুকরে কুটুরকুটুর,
কুটুমকুটুম হলদেপাখি ব্যস্ত ভারী বাড়ি বাড়ি আইব কুটুম জামাই-শ্বশুড়।

গাই বিচালীর বিছনা বিছায়
ঘাস চিবায় দলায় দলায়
বাছুর কী চায়?শালিক ধাওয়ায়
ফালায় সে তিড়িংবিড়িং রশিটা তার প্যাঁচায় গলায়।

তাল -সুপারি -নারিকেল শিরে চিরল পাতার বিরল বেনী,
কলার ছড়া পানের বরা আর শুকনো ছাল ঝরা মেহগনি।

বাঁশঝাড় তোলপাড় পাতার আড়াল থলের বেড়াল ছোট্ট ছাও চিলের বাসা,
টিনের ঘরে নাকের খোপে পায়রা পাড়ার যাওয়া- আসা।

ছাগীর পাশে তিনটে ছানা নাচে তা ধিন-ধিন তানানা
আটপৌরে কাপড় শুকায় উঠান রোদের দখিনা বাও,
একুশ দিনের ওমের পরে মুরগীর তলে বিশখানা ছাও।

গামছাবান্ধা ভাতের ডেকচি পিতল জগ-গেলাস কাঁখে,
চাষীর বউ ধান ক্ষেতে যায়
মাঝদুপুরে রোদে পুড়ে
চাষী ভাতের নলা মাখে।

ফুল-ফসল, লতায়-পাতায় কী যে সুখের দেশ!
হলদেডাঙার ঘুম ভাঙায় সাঁঝ সকালের রেশ।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।