অনিন্দ্য দা
- অনিরুদ্ধ রনি

অনিন্দ্য দা,
তোমার সাথে আমার প্রথম দেখা সেই বসন্তে।
একটা ভাজ ভাঙা সাদা রঙের পাঞ্জাবী পড়া ছিলো তোমার পড়নে।
গোল ফ্রেমের চশমা আর মাথায় এক ঝাক চুল নিয়ে তোমার সেই কী সাহিত্যিক ভাব।
আমার দিকে তো একবারও ফিরেও তাকালে না।
আচ্ছা অনিন্দ্য দা,
তুমি কী রবী ঠাকুরের কোনো চরিত্র?
না হলে, অমন হয়ে থাকো কেন তুমি?
জানো তো,
তোমাকে ভীষন পড়তে ইচ্ছে করে।
কিন্তু তুমি তো দুর্বোধ্য,
তাই পড়তেও পারি না।
অনিন্দ্য দা,
তোমার টেবিলের ড্রয়ারের লুকানো ডাইরিটা না আমি পড়ে ফেলেছি।
বিশ্বাস করো, আমি পড়তে চাইনি।
কিন্তু উসখুস মনটাকেও দমিয়ে রাখতে পারিনি।
আচ্ছা অনিন্দ্য দা,
তোমার ডাইরির প্রতিটি পাতায় জুড়ে যে মানুষটার বসবাস,
সে কে গো?
মৃণালিনী? না হৈমন্তী? রুপা?
নাকী নাটোরের বনলতা?
কাকে ভেবে এত শত কাব্য লিখে ফেলেছো?
তোমার সে কাব্যিনী কে যদি একবার কাছে পেতাম
জোড় গলায় বলতাম, তোমাকে খুব করে যেন অনেকগুলো কথা শুনিয়ে দেয়।
এত্ত গুলো বকা দেয় যেন।
তুমি মানুষটা এমন কেন?
এত অগোছালো আর ছন্নছাড়া কেউ হয়?
অষ্টমীর দিনে,
কাকাবাবুর সাথে কী একটা কারনে রাগ দেখিয়ে সারারাত তো বৃষ্টিতে ভিজলে।
পরে ঠিকই তো জ্বর বাঁধিয়ে বসে রইলে।
কাকাবাবুর সে কী রাগ।
কাকীমার অশ্রু সিক্ত চোখ আর তোমার জেদ।
মাঝখানে বিপাকে পড়লাম এই আমি।
ডাক্তার মশাইকে ডেকে আনলাম। তিনি ঔষুধ দিলেন। নিয়ম করে সকালে আর রাতে। তোমায় আমি খেতে বললাম। তুমি খেলে না। জোর করলাম।তুমি আমায় ধমক দিয়ে ক্রুদ্ধ স্বরে বললে -
যা তো এখান থেকে।
জানো তো
ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম সেদিন।
সাথে জন্ম হয় অনেকগুলো অভিমানের।
অনিন্দ্য দা,
তুমি কী আমার সাথে একটুও ভালো ব্যবহার করতে পারো না।
তোমাকে আমি যে ভয় পাই।
তোমার রাগী ভাব দেখলে ভয়ে কুকড়ে যাই।
গুনে গুনে ঠিক একটা বছর কেটে যায়।
ঐদিনের পর আমি আর তোমার সম্মুখ হলাম না।
তোমার বাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দিলাম।
যদিও আমার বেশ কষ্ট হয়েছে তোমায় ছাড়া থাকতে।
কিন্তু কী করব বলোতো?
কারো বিরক্তির কারণ হয়ে থাকতে চাই না যে আমি।
আমি ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিলাম। ভালো পাশ করলাম। ঐ প্রথম তুমি আমার বাড়ী এসেছিলে। সাথে নিয়ে এসছিলে একটা ছাঁপা রঙের শাড়ী।
আর সাথে একটা চিরকুট।
ষোড়শী,
সাদা পাঞ্জাবী তে আমায় কী খুব খারাপ দেখায়? অমন ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে ছিলি কেন?
কারো ব্যাক্তিগত ডাইরি ধরতে গেলে তার অনুমতি লাগে। তার জন্য তোকে শাস্তি পেতে হবে।
আমি না হয় একটা ধমক দিলাম তাই বলে তুই কথা বলা বন্ধ করে দিবি? অভিমান করে থাকবি? দাঁড়া, জেঠা মশাইয় কে বলে তোকে বাড়ী থেকে বিদায় করার ব্যবস্থা করছি।
ভাবছি এবার পূজায় ঘরে নতুন মানুষ তুলবো।
কীরে তুই কী আমার সে নতুন মানুষ হবি?
চিঠি টা পড়ে আমি হাসলাম।
আর বুঝলাম-
তোমার মৃণালিনী, হৈমন্তী, রূপা
কিংবা নাটোরের বনলতা,
সবটাই জুড়ে আমি, অনিন্দ্য দা।


কলমে: অনিরুদ্ধ রনি


৩০-০৭-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।