চিঠি-৪
- শাওন সারথি

৩৮ বাংলাবাজার, ঢাকা।
সময়- ০৩/০৮/২০০৫ইং
১২.১১ রাত্রি

প্রিয়
অহনা বিনতে জাহা

অনেক দিন প্রায় হইয়া গেল তোমার সাথে কোনরূপ কথা হয় না। আজিকে আপিস থেকে বাড়ি আসার সময় রাস্তার ধারে একটা হিজলের চারা দেখিয়া হঠাৎ করিয়া তোমার মুখচ্ছবি ভাসিয়া উঠিল। মনে হইল কত কাল আমাদের দেখা হয় না। আমি যখন চিঠি খানা লিখা শুরু করিয়াছি তখন বাহিরে বৃষ্টি হইতেছিল। যেদিন আমাদের প্রথম চুম্বন রাত্রি ছিল সেইদিনও বৃষ্টি হইয়াছিল। মনে আছে আমাদের প্রথম চুম্বন রাত্রির কথা? তোমার সবুজ শাড়ীর রঙ মিশিয়া গিয়াছিল অন্ধকার আকাশের সাথে! তখন ঘন তিমিরের কারুকার্যে আচ্ছাদিত আমাদের উঠানের প্রান্তর। তুমি যখন চোখ খুলিয়া তাকাইলে ততক্ষনে আকাশেও মুহুর্মুহু গর্জন শুরু হইয়া গিয়াছিল। হঠাৎ বজ্রের ডাকে তুমি ভয়ানক একটা ভয় পাইয়া আমারে ঠিক এমন ভাবেই জড়াইয়া ধরিয়াছিলে, লাউয়ের শাখা ঠিক যেইভাবে তার মাঁচা আটকাইয়া থাকে। চমকানো বিদ্যুতের আলোয় তোমার ভয়ার্ত চোখে সে কী কারুকার্য! আমি কেবল এক ঝলক দেখিয়াছিলাম সেই দুর্লভ কারুকার্য পরিচিত সেই চমকানো আলোয়। বৃষ্টি শেষে জল ফোটায় ফোটায় ঝরিয়াছিল আমাদের জানালার ধার ঘেঁষে। সেই পানসে বৃষ্টির ফোঁটা মুঠো করে আনিয়াছিলাম তোমার তৃষ্ণার্ত ওষ্ঠের চূড়ায়। তুমি চক্ষু বন্ধ করিয়া পান করিয়াছিলে যেইভাবে পান কর যৌবন সুধা। অথচ, অথচ তারপরেই আমাদের দীর্ঘ ব্যাবচ্ছেদ, আমাদের দীর্ঘ রাত্রির মৌনতা। আমি কত কাল এইরকম বর্ষণে বজ্রের ডাক শুনিয়াছি তার ইয়ত্তা নাই। কত কাল বৃষ্টির জলেই তৃষ্ণা পুষিয়াছি তারও কোন ইয়ত্তা নেই।

ভালো থাকিও আর ভালো থাকিবার প্রেরণা অতিসত্ত্বর পত্র মারফত জানাইও।

ইতি
গদ্য


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।