চিঠি-৫
- শাওন সারথি
সময়- ০৩/০৮/২০০৫ইং
১২.১১ রাত্রি
প্রিয়
অহনা বিনতে জাহা
অনেকদিন হইয়া গেল তোমার কোনরূপ সাড়া সব্দ পাইনা। মনে হয় কত কাল হইয়া গেল একটাও চিঠি পাঠাও নাই। আমার ভালো মন্দের খবর জানবার আগ্রহ না থাকুক অন্তত নিজের ভালো মন্দের খবর টুকুও তো জানাইতে পারো। আর কেউ না জানুক তুমি তো জানো কতোটা প্রতীক্ষায় থাকে এই হৃদয়। হেমন্ত আসি আসি করিয়া এখন যাইবার উপক্রম হইয়াছে। অথচ এমন হেমন্তেই আমাদের ব্যাবচ্ছেদ হয়েছিল। আবছা কুয়াশার ভেতর থেকে অর্ধেক চাঁদের আলোয় দেখেছিলেম শীতের শিমের মতই হৃদয়ের হৃষ্ট পুষ্ট আক্ষেপগুলো। আর কেউ না জানুক স্রষ্টা জানে সেদিন সেই অন্ধকারে সারারাত উষ্ণতায় ডুবিয়াছি হৃদয়ের নির্যাসে। তারপরেও হেমন্তকে আমি কি করিয়া উপেক্ষা করি বলিতে পারো? আমাদের অসংখ্য মিলিত অনুভূতির সাক্ষী এই হেমন্ত। বিশেষ করে তোমার তৈরি অসাধারণ কিছু খাবার। কিছুদিন আগে রাস্তার মোড়ে চিতই পিঠা খাওয়ার মুহূর্তেই তোমার কথাই মনে পড়িয়া গেল। তোমার হাতের সেই দুধ চিতই। তুমি নাড়িকেলের চিপড়ানো রস দিতে সেই দুধে মাখিয়ে। তাহাতে নাকি দুধ চিতই এর স্বাদ বৃদ্ধি পায়। আসলে ঘটনা আদৌ কি হয় জানি না তবে সেটা যে একটা অমৃত স্বাদ পায় তাহাকে আমি কোন কালেও অস্বীকার করি নাই। বরং তোমার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলেই কৃতজ্ঞতা দিয়াছিলাম সৃষ্টিকর্তাকে। তুমি খাইবার প্রাক্কালে খানিকটা মধু ছিটাইয়া দিতে সেই দুধ চিতইরে বাটিতে আর কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলতে তাহাতে নাকি ভিতরের শক্তি বৃদ্ধি পায়। তারপরে এমন অনেক হেমন্তেই দুধ চিতই খাইয়াছি, খাইয়াছি মধু ছিটিয়ে যার দুধ ছিল নারেকেলের চিপড়ানো রসে মাখানো। তবু সেই স্বাদকে অস্বীকার করি নাই। যেভাবে অস্বীকার করিনা হেমন্তের কুয়াশার জল। আর কেউ না জানুক তুমি তো জানো অস্বীকার করিবার দুঃসাহস আমি সেই হেমন্তেই হারাইয়াছি।
ভালো থাকিও। আর অন্তত ভালো থাকিবার প্রেরণাটুকু পত্র মারফত জানাইও।
ইতি
গদ্য
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।