ধাঁধার চর
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
ধাঁধার চর
কলমে মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কপাসিয়া,গাজীপুর
তারিখঃ ০৪-০৯-২০২৫।
---------------------------------------------
শীতলক্ষ্যা নদীর কোমল কোলজলে ভেসে আসে আলো,
বিন্দু বিন্দু বালু জেগে ওঠে চরপথের খেলা।
ব্রহ্মপুত্রের স্নিগ্ধ ছায়ায়, নদীর বুকে ভাসে ধাঁধা,
সোনালি রোদে মেখে চরের বুকের নীরবতা।
রাণীগঞ্জ থেকে তারাগঞ্জ পর্যন্ত ছড়ায় এই চর,
লম্বায় চার কিলোমিটার, চওড়ায় বর্ষায় আধা কিলোমিটার।
বর্ষার ঢেউ যেন কক্সবাজারের সমুদ্রের ছাপ,
পাতায় পাতায় বাজে পাখির মধুর কণ্ঠস্বর, হাওয়ায় নাচ।
পেয়ারা, কলা, জাম ও তাল—চরের বুক ভরা ফল,
ফসলি মাঠে ছড়ায় সবুজ-সোনালি রঙের ঢল।
ঝিরঝিরে বাতাসে দুলে কাশফুল হাতছানি দেয়,
পাখির কিঁচিরমিচিরে নদী হাসে, জলে আলো খেলে।
মাঝির আকুল গান, ভাসমান নৌকার মৃদু ঢেউ,
চরের কোলে শিশুরা খেলে, বন্ধু হাসে সুখের ঢেউ।
মাছরাঙা নাচে জলে, শুশুক আকাশে ঘোমটা দেয়,
চরের বুক জেগে ওঠে প্রকৃতির এক অপরূপ খেলা।
ভাওয়ালের রাজা, বার ভূঁইয়া—ঐতিহাসের ছাপ,
খাজনা দিয়ে কৃষক চাষ শুরু করে পথ।
ব্রিটিশ জরিপে বৈধ মালিকানা, ইতিহাসে খোঁজ,
১৯৪৭—দেশভাগে হিন্দু চলে যায়, মুসলিম হাতে জমি।
আলুর চাষ, আখের স্মৃতি, মাটির উর্বর বরণ,
ফসলের ফলনে মেলে স্বাদের অনন্য রসধারণ।
বিকেলের সূর্য, নদীর ঢেউ, চরের সবুজের মিলন,
চরের অপরূপ সৌন্দর্য হৃদয় ছুঁয়ে যায় চিরকাল।
ঝিরঝিরে বাতাসে দুলে ফুল, পাতা নেচে ওঠে হাওয়ায়,
নদীর প্রতিটি ঢেউ চরের কোল ছুঁয়ে যায় স্নিগ্ধতায়।
পর্যটক দূর-দূরান্ত থেকে আসে আনন্দে ভরা চোখে,
চরের বুকের সৌন্দর্য মনে পড়ে চিরন্তন ঢেউয়ের মতো।
সত্যিকার অর্থে—ধাধার চর নদীর মধুর রূপক,
যেখানে জীবন, প্রকৃতি, ইতিহাস সব একসাথে বাঁধা।
-------------------------------------------
০৫-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।