মনের খসড়া থেকে
- অনিরুদ্ধ রনি

(তোমাকে স্মৃতিতে রাখি, বিস্মৃতিতেও তুমিই প্রথম
অগ্নি তুমি: আর আমি পুড়ে যাওয়া মোম...)

অনিরুদ্ধ রনি

গেয়ে উঠছি জ্যোৎস্নারাত ও গেয়ে উঠছি বন
আজকে হঠাৎ কীসের ছোঁয়ায় উদাস হলো মন!
হঠাৎ কেন? হরহামেশাই এমন উদাস হয়
চলিষ্ণু মেঘ ঝরাচ্ছে খুব ইমোশন নিশ্চয়!

ও কাশবন, বলিসনি তো, তোর প্রিয়রও শাদা!
আজকে আমার মনটা ভালো, মনটা খারাপ
আধা___
আজকে কেন? রোজ রোজই তো এমন আধাআধি!
আর্দ্রতাতেই সারা বছর শ্রাবণে সুর সাধি।

ও তুলোমেঘ, বলতো আমার এমন হলো ক্যানো?
পর হয়ে যায় গভীর চেনা ফ্রেন্ডলি অনেক ম্যান-ও...
দৃশ্যপটে নাচছে শুধুই ইনভিজিবল পরী
সময়জ্ঞানের হিসাব বাতিল, বন্ধ সকল ঘড়ি।

রে মনোভাব, উথলে উঠিস এ কোন লুপ্ত ভাষায়?
বুঝতে গিয়ে ভাসছি এখন প্রখর কীর্তিনাশায়।
নদীর কাছে জল না চেয়ে মেঘের পিছে ঘুরি
মেঘ তো অশেষ রহস্যময়, বাজায় নিঠুর তুড়ি
হাজার রকম বাজনা শুনে নিজেই হলাম গান
গেয়ে উঠছি অন্ধকার ও রক্তস্নাত প্রাণ...

এবার আমার ফেরার পালা, এবার ধু-ধু বুক
স্রোতের কানে কান পেতে হই শ্রবণে উৎসুক

ও নদী মা, তুই তো দিলি আমার গলায় ফাঁসি পদ্মোদকে ভাসিয়ে গেলি কেলে সর্বনাশী!
সাঁতার বিমুখ, পথ চিনি না, জাগলো এ কোন চর? চরের মধ্যে সহোদরার ব্যর্থ বাসর ঘর...
ঘর ছেড়েছি বেশ তো আগেই, বুকের মধ্যে নদী,
বনের মধ্যে বোন খুঁজে হই ক্লান্ত এবার যদি
তুই এসে দিস কুমন্ত্রণা, তুই এসে দিস ঘুম
চারদিকে খুব ধুম পড়েছে, হৃদয় ভাঙার ধুম।
লিখিস তোদের গোপনকথা, আঁকিস কচিপাতা,
আমিই হবো ডায়েরি তোদের, আমিই খেরোখাতা...

এই যে এমন গাইছি প্রণয়, গাইছি বিড়ম্বনা,
একা তো নই! একের ভেতর যুক্ত অনেকজনা।
শান্ত দিঘির নিখর জলে অশান্ত এক ঢেউ
তুই তো আমার অনেক কিছু, তুই তবু নোস কেউ
হতভম্ভ মাথার ওপর মেঘ তুলেছে ছই
নীরবতার মধ্যে হঠাৎ অনন্ত হৈ চৈ।
মেঘের গাঁয়ে যাচ্ছি তবে, মেঘের বাড়ি যাই,
সঙ্গে তখন কেউ ছিল না, আমি তো একলাই!

ও ধুলো সই, তুই কেন ফের আমার পিছু নিলি??
বেশ তো অনেক গুপ্তপথে সুপ্তরাণী ছিলি।

গেয়ে উঠছি বৃষ্টি এবং গেয়ে উঠছি রোদ
আজকে হঠাৎ জাগলো কেন এমন লজ্জাবোধ?
আজকে তো নয়! বরাবরই এমন লাজুক আমি
একলা পাখির সামনে যেতেও করুণভাবে ঘামি
কিন্তু আমার ভাব রয়েছে ফুল-পাখিদের সাথে
ভাব ছুটে যায় তাই নিকটে যাই না তো শঙ্কাতে!

ও বিরহ, বল তো আমার এমন কেন হয়?
অনেক সাহস গিলতে থাকে এক চিলতে ভয়...
খিল এঁটে খুব যাচ্ছি সেঁটে অনুল্লেখ্য ঘরে
চাঁদ থেকে আজ প্রলোভনের জ্যোৎস্না ঝরে পড়ে
আজ তো আবার স্পর্শ মানা! একটু পড়েই গ্রহণ
জ্বর নামছে শরীর জুড়ে, হৃদয় জুড়ে দহন....

বল তো ও জ্বর, এমন গভীর গ্রহণ যে জন জানে
তার সাথে এই অদর্শনের হেতুটা কোনখানে?

স্পর্শহেতু ফুল ঝরে যায়, কার ইশারা জাগে!
স্বপ্নহাতে সে এসেছে জ্যোৎস্না ফোটার আগে।
এসেছে কি? প্রশ্ন গড়ি এবং অন্ধকারে
ত্রস্তপায়ে বেরিয়ে পড়ি অ-বন্ধু সংসারে
বাসনা হে, তার দেখা নেই, কার দেখা নেই, কার?
সে এসেছে, সে আসে নি, কে আসে নি আর?
গেয়ে উঠছি আগুন এবং গেয়ে উঠছি জল
পত্রিকাতে কী লিখেছে আজকে রাশিফল?
আমার তো ফের মকররাশি, রোমান্স শুভ নয়-
যানবাহনে সতর্কতা জানাচ্ছে নিশ্চয়।
তা হোক, তবু আন্তঃনগর ট্রেনে চেপে বসি
আজ, কে আবার পেছন থেকে ধরলো টেনে রশি? আজ তো আমার অফিসও নয়, আজ তো আমার ছুটি-
তবে কেন থাকবো হয়ে হাতিরপুলের খুঁটি?
কাজেই আমার মন ভালো নেই, কাজেই যাচ্ছি বাড়ি
ইস্টিশানে শুনছি ট্রেনের শব্দ রকমারি।

ও কবিতা, বুঝেছি তোর জমছে অভিমান...
দুঃখিত, আজ ছুটলো আমার খেয়ালখুশির যান
আজ তো আমার মন ভালো নেই, বিষণ্ণতা খুব... তিস্তা-ঘাঘট-করতোয়ায় কাজেই মেরে ডুব
যাচ্ছি কোথাও অন্যখানে, অন্যরকম দিনে
স্বপ্ন কেটে কুচি কুচি ধারালো সঙ্গিনে

গেয়ে উঠছি বিরহ আর গেয়ে উঠছি রাত
কোন কারনে আমার এমন অঝোর অশ্রুপাত?

ও উড়োমেঘ, আমাকে তোর ডানায় নিয়ে যা না।
এমন কঠিন বিষণ্ণতায় স্থবির থাকা মানা।
তোর কবিতা শুনবো এবং হারিয়ে যাবো হেসে
উড়িয়ে নিয়ে চল না, ও মেঘ, নতুন আলোর দেশে!

অনিরুদ্ধ রনি - Aunirudh Roney


০৭-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।