এডভোকেট চৌধুরী মোহাম্মদ সাদির
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
ওরে এই বাংলার নবীন প্রজন্ম! শোনো, শুনো গর্জনধ্বনি,
১লা অক্টোবর ১৯১৬, মামরুদি গ্রামে জন্ম নিলেন আলো-অগ্নির সাকি—
চৌধুরী মোহাম্মদ সাদি, হাসানের প্রজাপতি সন্তান,
সাদির মোক্তার নামে পরিচিত, ন্যায়ের পথে অদম্য অগ্নিশিখা।
ঢাকায় মেট্রিক, উনিশ শত ঊনচল্লিশ,
কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের হাইকোর্টে ১৯৪২-এ মোক্তারি,
১৯৪৩-এ ঢাকায় আইনের অঙ্গনে তাঁর আগুন,
পুরানো ঢাকার বংশাল-মালিটোলায় চেম্বার স্থাপন,
নিশ্চল প্রতীক, ন্যায়ের বজ্রধ্বনি!
ষাটের দশকে ঢাকা মোক্তার বার কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট,
বারবার নির্বাচিত, স্বাধীনতার আগুনে প্রজ্জ্বলিত,
মেট্রোপলিটন এডভোকেটস বার – ধ্বনিত হোক তাঁর নাম।
হে প্রজন্ম! তাঁর রাজনীতি বজ্রপাত, তাঁর সেবা নদীর জলপ্রবাহ,
আওয়ামী লীগের জন্মলগ্নে তিনি ঘনিষ্ঠ সহচর,
বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গতাজ—তার ধ্বনি, তার সাহসের সাক্ষী।
ঢাকা নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ,
ঢাকা সদর নর্থের সভাপতি,
জনতার হৃদয়ে অগ্নির সেতু বেয়ে চলেছে তাঁর পদচারণা।
১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে প্রস্তাবক বঙ্গতাজের,
সমর্থক হেকিম মোল্লা, মিলিল বিজয়ের জোয়ার,
কাপাসিয়া-কালিগঞ্জের জনতার বুক জ্বলে ওঠে ধ্রুবতারার আলোয়।
হে দুর্ভোগের জনপদ! শোনো, শোনো নৌপথের বজ্রগর্জন,
১৯৬০-এ তিনি প্রতিষ্ঠা করিলেন শীতলক্ষ্যা ন্যাভিগেশন লঞ্চ কোম্পানি।
পান্না, বাবলা, ফাদিয়া, সান লাইট, চৌধুরী, নাজির, জলপিপি—
নৌপথের বহরে, ছুঁয়েছে আকাশের প্রতিধ্বনি।
নারায়ণগঞ্জ থেকে হাতিরদিয়া, কাপাসিয়া, টোক, বর্মী, চরসিন্দুর, পলাশ, ঘোড়াশাল—
পদচারণা ছাপানো পথের অভাবে, লঞ্চগুলো হলো জীবনের প্রদীপ।
শিক্ষার্থীদের দিলেন বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের মুক্তির আলো,
শিক্ষা বিস্তার, নারী শিক্ষার দীপ্তিময় প্রভা,
জ্ঞান-অগ্নিপ্রকাশে উজ্জ্বল করিলেন সমগ্র জনপদ।
১৯৬৫-তে তিনি দাঁড়ালেন সমাজসেবার অগ্নি-মিনারে,
কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজের জন্ম-প্রতিষ্ঠায়,
বঙ্গতাজ, ফকির মান্নান, ডাঃ সানাউল্লাহ, সফিউদ্দিন আহমদ, মেজবাহ উদ্দিন—
সকলের সাথে একত্রে, ইতিহাসে অক্ষয় দীপ্তি।
পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রাখিলেন বড় অংকের ডিপোজিট,
ছয় মাসের শিক্ষকদের বেতন, করপোরেট গ্যারান্টি শীতলক্ষ্যা ন্যাভিগেশনের অর্থে,
প্রজন্মের জন্য জ্বালালেন শিক্ষার অম্লান বাতি।
১৯৭০ সালে নারী শিক্ষার জন্য মায়ের নামে গড়ে তুললেন আখতার বানু গার্লস হাই স্কুল,
হাসানপুর পোস্ট অফিস স্থাপন করলেন পিতার নামে,
স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানায় অসংখ্য দান,
জনকল্যাণের প্রতিটি পদক্ষেপে বাজিলো তাঁর অগ্নিশিখা।
১৯৭০-এর নির্বাচনে মনোনয়ন চাইলেন, না পেলেও থামলেন না,
সাহসে চলিলেন অবিচল, বজ্র, বিদ্যুৎ, ঝড়, আগুনের ছন্দে।
তিনি তিন পুত্র, তিন কন্যার পিতা,
কিন্তু ২৭ জুলাই ১৯৭৭, ৬১ বছরে জীবন রাখিলেন চিরবিদায়।
মহাপ্রয়াণের দিনে আকাশ কেঁদে উঠল বজ্র-বৃষ্টিতে,
অমর হোক তাঁর নাম, অমর হোক সংগ্রামের অগ্নিপথের ছন্দ।
ওরে নবীন প্রজন্ম! শুনো, শোনো বজ্রধ্বনি,
এডভোকেট চৌধুরী মোঃ সাদি—আইন, রাজনীতি, সমাজসেবায় এক অগ্নিশিখা।
তিনি শুধু মানুষ নন, তিনি বজ্র, তিনি ঝড়, তিনি বিদ্যুৎ, তিনি আলোর অমল দীপ্তি,
বাংলার বুক জ্বালানো অদম্য শক্তি,
চিরকাল উচ্চারিত হোক:
“সাদি, আমাদের সংগ্রামের অগ্নিপথের সারা!”
০৮-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।