আবদুল বাতেন খান, বীর প্রতীক
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

আবদুল বাতেন খান, বীর প্রতীক
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ও হে প্রজন্ম, শুনে যা এ সাহসের গাথা,
সেই রাতের অন্ধকারে, সীমান্ত অতিক্রমে যাওয়া।
আবদুল বাতেন খান, বীর প্রতীকের মতো উজ্জ্বল,
সঙ্গী যোদ্ধাদের সঙ্গে এগিয়ে যায় নিশ্বাসহীন, দমবন্ধ রাতের পথে।

মাইন ফিল্ডের শিকার, আহত হয় কয়েকজন সঙ্গী,
কিন্তু দমে যায় না, নীরব মনোবল হারায় না কেউই।
প্রতিবন্ধকতার অমোঘ ঢেউ উপেক্ষা করে,
আক্রমণ চালায়, গোলাগুলিতে রাতের আকাশ লাল হয়।

সকাল হতেই বিপুল বিক্রমে চড়াও হয় মুক্তিবাহিনী,
পেছনে হটতে থাকে শত্রু, নতুন শক্তি খুঁজে নেয় তারা।
পাল্টা আক্রমণ আসে, বিস্ফোরিত গোলার শিখা,
কিন্তু দখল করা এলাকা থেকে সরে যায় না বীরবাহিনী।

সালদা নদীর তীরে, সীমান্তসংলগ্ন,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটিতে লেখা হয় ইতিহাস।
রেলস্টেশনের বাংকার, মাটির নিচে তিন স্তরে সাজানো,
কামানের গোলায় ধ্বংস হয় শত্রুর ঘাঁটি, নিহত ও আহত হয় শত্রু সৈন্য।

তখন ল্যান্স নায়েক আবদুল বাতেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীরই সৈন্য,
শমশেরনগর থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে যুদ্ধে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, ধনদইল, নয়নপুর—
সাহসিকতার প্রদর্শনী, প্রতিরোধের কাব্যিক অধ্যায়।

১৯৭৩ সালের গেজেটে লেখা হয় তাঁর বীরত্বের কাহিনী,
বীর প্রতীক খেতাব, নম্বর ১১০—অম্লান মহিমা।
স্বাধীনতার পর, ১৯৮৯ সালে হাবিলদার হিসেবে সেনা অবসর,
পৈতৃক গ্রাম আড়াল, গাজীপুরে শান্ত জীবন।

বীরের পিতা সামসুদ্দিন খান, মা হাসুনি বেগম,
স্ত্রী হেনা বেগম, দুই ছেলে, দুই মেয়ে—
এ জীবন, এই বীরত্ব, এই গাথা,
নিশ্চয়ই স্মরণীয়, নজরুলীয় আত্মার আলোয় দীপ্ত।
-----------------------------------------------------------------


০৮-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026