শহীদ মো. দৌলত হোসেন মোল্লা, বীর বিক্রম
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
শহীদ মো. দৌলত হোসেন মোল্লা, বীর বিক্রম
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
****************************************
ওহে আকাশ, শোনো দৌলতের বীরত্বগাথার গান,
ভারতের হলদিয়া বন্দরে যাত্রা, মুক্তির নৌযান।
পদ্মা ও পলাশ—দুই জাহাজ, পলাশে ক্রুম্যান দৌলত,
লক্ষ্য খুলনার নৌঘাঁটি, শত্রুর প্রতি অদম্য বলত।
মিত্রবাহিনীর সঙ্গে, বন্ধুত্বের জাহাজ ভাসে,
রূপসা নদীর শিপইয়ার্ডে বিপদ, আগুনের ধূমায় ঘাসে।
তিনটি জঙ্গি বিমান, আকাশে চক্কর দেয় ভয়ানক,
বোমা বর্ষণ—পদ্মা বিধ্বস্ত, পলাশের ইঞ্জিন জ্বলছে অমর শক্তি।
নৌমুক্তিযোদ্ধা শহীদ, আহত কাতরাচ্ছে চিৎকারে,
দৌলত ঝাঁপ দিলেন পানিতে, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই তারকারে।
সাঁতরে নদীতীরে, বিপদের চোখে রাজাকার দাঁড়িয়ে,
ধরা পড়ে দৌলত, বেয়নেটের আঘাতে শহীদ হয়ে মরে।
রুহুল আমিনও একই ভাগ্য, মুক্তির পথে রক্ত ঝরে,
সিরাজুল মওলা চেষ্টা করে, দৌলতকে রক্ষা করতে চরে।
‘আমার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা, মুখ দেখিনি শিশুর’,
বললেন দৌলত, চোখ ভিজে, হৃদয় জ্বলে বীরত্বের সেশুর।
মো. দৌলত নৌবাহিনীতে চাকরি, বাড়িতে ছুটি পেয়েছিল,
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হতেই, ঝাঁপিয়ে পড়ল তিনি যুদ্ধে।
স্থলযুদ্ধে অংশগ্রহণ, অক্টোবরে নৌ উইং গঠিত,
পলাশ গানবোটে ক্রুম্যান, সাহসিকতার প্রতীক লঘিত।
নৌ অপারেশনে অংশ, পদ্মা ও পলাশের অভিযান,
মৃত্যুও থামাতে পারল না, বীরের অক্লান্ত প্রাণ।
১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর, ভারত থেকে যাত্রা শুরু,
১০ ডিসেম্বর শিপইয়ার্ডে পৌঁছলে, ঘটে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, ভীষণ ধ্বংসের সূচ।
বোমা মিত্রবাহিনীর ভুল, শত্রু নয়, বন্ধুর ওপর বর্ষিত,
পদ্মা ও পলাশ সলিলসমাধি, নৌমুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও আহত বিপর্যস্ত।
গুরুতর আহত দৌলত, রুহুল আমিন, সিরাজুল মওলা, আফজাল মিয়া,
সাঁতরে নদীতীরে গেলেন, কিন্তু রাজাকার দাঁড়ালো শত্রুর ভিড় ঘিয়া।
দৌলত নদীতীরের কিছুটা জায়গায় পৌঁছে, আহত অবস্থায়,
সিরাজুল মওলা পাশে, চেষ্টা করল নিরাপদ স্থানে তাঁকে নিতে ধ্রুব স্থায়।
কিন্তু আর পারলো না, মওলা এগিয়ে বাঁচলো,
দৌলত ধরলো রাজাকার, নির্মমভাবে বেয়নেট দিয়ে হত্যা হলো।
মো. দৌলতের পৈতৃক বাড়ি—গাজীপুর, কাপাসিয়া, চরখামের গ্রামে,
বাবা মো. আয়েত আলী মোল্লা, মা তাহেরা খাতুনের নামধারী দামে।
স্ত্রী আমেনা বেগম, এক মেয়ে, ঢাকার নয়াটোলা চিরবাস,
চেয়ারম্যান গলির ঠিকানায় স্মৃতির দীপ জ্বলে, আজও বাতাসে প্রকাশ।
মুক্তিযুদ্ধে সাহস ও বীরত্ব, নৌবাহিনীতে অবদান,
বীরত্বভূষণ নম্বর ১২৮, ১৯৭৩ সালে খেতাবে ভূষিত মহান।
মৃত্যুত্তর বীর বিক্রম, নাম গেজেটে—মো. এইচ. মোল্লা,
চির অম্লান, স্বাধীনতার ইতিহাসে, বীরত্বের দীপ জ্বলছে আলোর কোল্লা।
জলের ঢেউ, আগুনের ছায়া, রক্তের সাক্ষী,
মো. দৌলত হোসেন মোল্লা, বীর বিক্রম, চির অম্লান বীরত্বের কণ্ঠি।
ওহে প্রজন্ম, শোনো, নৌমুক্তিযোদ্ধার সাহসী গাথা,
রক্তে লেখা স্বাধীনতার মহাকাব্য, চিরন্তন স্মৃতির আকাশে বাতাসে বাতাশা।
০৮-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।