অন্যায়
- অপু চন্দ্র বর্মন

আমরা শিক্ষক সরাতে গিয়ে শিক্ষা সরিয়ে ফেললাম,
আলো জ্বালাতে গিয়ে প্রদীপ ভেঙে ফেললাম।
সভ্যতার নামে গড়ি ইস্পাতের প্রাচীর,
মানবতার ভিতর করি অমানবতার চাষাবাদ।

আমরা আবর্জনা সরাতে গিয়ে কুকুর সরালাম,
কিন্তু নোংরা মনের দুর্গন্ধ কোথায় রাখলাম?
শিশুর হাসি সরিয়ে দিলাম কংক্রিটের বুকে,
খেলার মাঠ হারাল সুর্যাস্তের সোনালি ঝলকে।

হাসপাতাল আছে—চিকিৎসা নেই,
ডাক্তার আছে—মানবতা নেই।
রাস্তা আছে—কিন্তু নেই মেরামত,
বুকের ভেতর ভাঙন, তবু নেই কোন সমাধান।

শিক্ষার আলো ছড়াবার কথা ছিল,
কিন্তু আমরা বানালাম ব্যবসার দালান।
বইয়ের দাম বাড়াই, টিউশনের খেলা,
অভিভাবকের ঘামেই বেঁচে থাকে বেপরোয়া বাণিজ্য।

আমরা ন্যায় চাই বলে শপথ করি,
কিন্তু আদালতের ভেতর চলে টাকার হাট।
আইনের দাঁড়িপাল্লা ধনী দিকে ঝোঁকে,
গরিবের ন্যায় মুছে যায় ধূলায়।

ধর্মের নামে গড়ি বিভেদের সেতু,
মানুষের হৃদয় ভাঙি শত্রুতার খঞ্জরে।
শান্তির বাণী হারায় ভণ্ডামির আওয়াজে,
পাথরের মূর্তি রয়ে যায়, মানবতা ভেঙে পড়ে।

রাজনীতির মঞ্চে প্রতিশ্রুতির ফুল,
কিন্তু বাস্তবতায় কেবল মিথ্যার মেঘ।
ক্ষমতার লড়াইয়ে জ্বলে ওঠে শহর,
প্রজার রক্তে ভিজে যায় রাজপথ।

আমরা প্রাসাদ গড়েছি ধনীদের স্বপনে,
কুঁড়েঘর ভেঙেছি গরিবের চোখে।
উৎসব সাজিয়েছি আলোর বাহারে,
কিন্তু অভুক্ত পেট পেয়েছে অন্ধকার।


১৭-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।