সাহিত্যনিধি
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
সাহিত্যনিধি
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এছছান মোল্লা
কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************
কাপাসিয়ার তরগাঁও, ধানের সমুদ্রের ঢেউ,
সেই গ্রামে জন্ম নিল এক জ্যোতির্ময় প্রভাতের ছোঁয়।
পিতা মৌলভী আমিন উদ্দিন—প্রজ্ঞার দীপশিখা,
ছায়ায় বেড়ে উঠলেন সৈয়দ এহছান উদ্দিন, জ্ঞানবাহক ধারা।
১৯৩০ সালে ভর্তি, এমই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণি,
শিশুমনে লেখা নামের সাথে শুরু হলো শিক্ষার ধারা।
অক্ষরে খুঁজলেন অজানার রহস্যময় বিজ্ঞান,
প্রজ্ঞার মঞ্চে জ্বলে উঠল অন্তরের আলোকধারা।
সহকারী শিক্ষক হয়ে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে জ্বালালেন প্রদীপ,
ছড়িয়ে দিলেন ন্যায়ের বাণী, সততা ও সাহসের আলো।
শিক্ষার্থীর মন জাগ্রত হলো নৈতিকতার পথপ্রদীপে,
সত্যচেতা মানুষের অন্তরে জন্মাল আলোছায়ার ছায়াপথে।
১৯৩৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন—অর্জনের সাফল্যের সিংহাসন,
জীবনের পথে গড়ে দিল নতুন আলোর রথমিছিলের গান।
১৯৪১ সালে কলকাতা থেকে আই-এ উত্তীর্ণ হয়ে প্রভাবশালী,
উচ্চশিক্ষার প্রাঙ্গণে ভরালেন চিন্তাশক্তির অমলিন আলোচারি।
ফিরে এলেন মাতৃভূমিতে, সহকারী শিক্ষক হিসেবে সেবা,
কাপাসিয়া হাই স্কুলে ছড়িয়ে দিলেন বিদ্যার অনন্ত জ্যোতি-বেতার।
১৯৪৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ লাভ,
পরবর্তীতে সরকারি চাকুরি শুরু করলেন কল্যাণ-পথে ধ্রুবাভাবে।
প্রতিটি পদক্ষেপে ছড়াল জ্ঞানপ্রেরণার আলোকধারা,
দেশের কল্যাণে নিয়োজিত হলেন ন্যায়ের দৃষ্টান্ত-সারথি ধারা।
১৯৫১ সালে পুনরায় মাতৃভূমির পাঠশালায় যোগদান,
প্রধান শিক্ষক হয়ে জ্বালালেন শিক্ষার অমলিন দীপ্তিশিখা।
সুদীর্ঘ ৩৩ বছর, ১৯৮৩ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন,
দক্ষতা ও সুনামের সহিত গড়ে তুললেন বিদ্যার প্রাণ।
শিক্ষার্থীর মনে ছড়িয়ে দিলেন আশা ও প্রজ্ঞার আলো,
মানবতার পথে ছড়িয়ে গেল ন্যায়ের জ্যোতি, রাত-দিনের ঝলক।
জনাব, সৈয়দ এহছান উদ্দিন আহম্মেদ—
সাহিত্যনিধি, শিক্ষক, জ্ঞানের দীপ্তিশিখা।
জীবনকথা হয়ে থাকল প্রেরণার চিরন্তন উৎস,
মানবতার মাঝে অমর হয়ে বিস্তার করল আলোকধারা।
প্রকৃতি শিখালেন সূর্য-চন্দ্রের চিরন্তন ছন্দ,
বিজ্ঞান জানান ক্ষুদ্রতম কণার মহাকাশবন্দ।
দার্শনিক মননে সৃষ্টির রহস্য অনুধাবন,
আকাশের নীলিমায় দেখালেন মুক্তির অন্তর্গভন।
কল্যাণের পথপ্রদর্শক, সততা ও সাহসের ধারা,
প্রজন্মের হৃদয়ে রেখেছেন জ্ঞানের অমলিন আলোছারা।
নদীর কলতানে শোনালেন অধ্যবসায় ও প্রজ্ঞার গাথা,
বাতাসে ভেসে গেল শিক্ষার আলো-ঝিলিকের কাহিনী।
ফুলের সৌরভে অনুভূত করালেন মানবিক অনুপ্রেরণা,
তাদের অন্তরে জন্মাল জ্ঞানভিত্তিক চিন্তার উজ্জ্বলা।
আকাশ-সপ্তরঙ্গের মধ্যে লক্ষ্য করালেন উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিক,
বিজ্ঞান ও নৈতিকতার সমন্বয়ে গড়ে তুললেন ধ্রুবপদ।
১৯৯৪ সালের ৩০ মার্চ, সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে,
হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রস্থান।
পৃথিবীর মায়া গেল, কিন্তু রেখে গেলেন অমর শিক্ষা,
স্মৃতিতে, ইতিহাসে, প্রজন্মের অন্তরে জ্বলছে দীপ্তি।
মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীফ করুন—আমীন,
চিরকাল অমর থাকবেন মানবতা ও শিক্ষার প্রেরণার দিশানী ধামীন।
---------------------------------------------------------
১৮-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।