প্রবাসীর সাজঘর
- মোঃ নাসির উদ্দীন

বিয়ে করো সাজঘর ভেঙে,
আনো এক মেয়ে—স্বপ্ন রেঙে।
দুটি চোখে আশার দীপ্তি,
ভেবেছিলে, এই বুঝি চিরসুখের নীড় সৃষ্টি।

তুমি পাড়ি দিলে প্রবাসের দেশে,
পেছনে ফেলে গেলে ঘর, প্রেম—একলা মেঘের শেষে।
এক বছর, দুই, তিন পাঁচটি বসন্ত পার,
সে গুনে শুধু দিন—ঘড়ির কাঁটায় হার।

যত চিঠি লিখো—“আসি শিগগিরই,
আর ক’টা দিন, তারপরই তুমি আমারই।”
কিন্তু সেই দিন আসে না,
আসে শুধু চিঠির পরে চিঠি, স্মৃতির চিহ্ন, না-পাওয়ার ব্যথা।

বউটা যে একা ঘরে—
না তার কাছে স্বামী, না সুখের দ্বারে।
আলতা শুকায় শাড়ি মরে,
আয়নার কাচেও সে নিজেকে খুঁজে না পরে।

তিন বছর... চার বছর... পাঁচ,
বউয়ের হৃদয় জ্বলে, ঘরে শুধু আঁচ।
ফোনে বলো—"তুমি আমার জান",
কিন্তু বিছানায় পড়ে থাকে শুধু নিরব ঘুমহীন তান।

একা সাজি একা কাঁদে লুকিয়ে,
তুমি দাও ছবি, টাকা, আশ্বাস জড়িয়ে।
একটি জীবন কী শুধু অপেক্ষা হয়?
ঘড়ির কাঁটার সাথে প্রেমও কি মরে যায়?

এক মাস এসে থাকো,
বাকি বছর সে শুধুই আগুনে পুড়ে বাঁধা রাখো।
বুকে চেপে রাখা অভিমান—
তোমার একঘণ্টা আদরের বদলে সে কাটায় শত রাত নিরামিষ প্রাণ।

এবার ফিরেছো...
কিন্তু ফিরেছো কেবল এক খাঁচাভরা শরীর হয়ে,
তোমার কিডনি দুটো অচল,
হৃদয়ে জমে গেছে নোনা পাথর।

শরীরে বাসা বেঁধেছে রোগ,
বউ চেয়ে দেখে—একি তার বর, না মৃত স্রোতহীন ঢেউয়ে ভাসা এক শোক?
যৌবন গেল, প্রেম গেল, চোখ গেল শুকিয়ে,
তুমি দিলে কেবল অসুখ, বাকি জীবনের থেমে থাকা ছায়া বুকে।

কি দিলে তুমি? কি পেলে ফিরে?
কাগজের নোট? নাকি অলস নির্জনে ঘিরে?
যে ভালোবেসেছিলো প্রাণ দিয়ে,
তাকে দিলে একা থাকা—বুক ভেঙে চিরদিনের সিয়ে।


১৯-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।