নব যুগের প্রেরণা
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

নব যুগের প্রেরণা
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

ওহে শুনো, ওহে শোনো, রাওনাটের বুকে
জন্মেছিল এক মেধাবী, চাঁদের আলোয় দ্যুতি ছড়িয়ে।
পিতা আঃ লতিফ আকন্দের কোলে লাল সূর্যের মতো উজ্জ্বল,
মাতা সায়মন বেগমের স্নেহে, বর্ষার মাটির মতো কোমল।

লুঙ্গী শার্টে ছুটে যেত সে শিক্ষার পথে,
সব শ্রেনীতেই মেধার স্বাক্ষর—দীপ্যমান রশ্মি যেন অগ্নির খোঁপা।
বরাইদ প্রাইমারী স্কুলের আঙ্গিনা পেরিয়ে
রাওনাট আদর্শ উচ্চবিদ্যা নিকেতনে উড়েছিল পাখির মতো।

নদীর জলে প্রতিফলিত আকাশের স্বপ্নের ছায়া,
হাওয়ার কণায় মিশে চিন্তার বীর্য্য।
বৃক্ষের ছায়ায় গেঁথে শপথ,
পাথরের খাঁজে শুনেছে ধৈর্যের মন্ত্র।

জীবন নদীর প্রবাহ—অনিশ্চিত, অনন্ত,
ক্লান্তি, দুঃখ, আশা—ঢেউয়ের বিদ্রোহী ছন্দে ভেসে।
অধ্যবসায়, ন্যায়বিচার, নৈতিকতার দীপ্তি,
প্রতিটি ধাপে জ্বলে ছিল আলোর অমলিন নক্ষত্র।

১৯৮২ সালে এস এস সি পরীক্ষার দিনে,
ছয় বিষয়ে লেটার সহ প্রথম বিভাগ—উজ্জ্বল রোদ।
দেশ জুড়ে সৃষ্টি হলো আলোড়ন, উদ্দীপনার স্রোত,
রাওনাটের ইতিহাসে লেখা অমলিন জ্যোতির ছাপ।

১৯৮৪ সালে এইচ এস সি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ,
কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজে জ্ঞানের মন্দির।
শিক্ষার দীপ্তি ঝরে পড়ে খোলা আকাশের মতো,
জ্ঞানচর্চার স্রোতে বাঁধা পড়েনি কোন বাঁধা।

চেয়েছিল শিক্ষার পূর্ণ জ্ঞান,
লেকিন দারিদ্র্যের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ল প্রাণ।
সংসারের হাল ধরতে, কৃষিকাজে হাত দিতে হলো,
লেখাপড়ার আলোকে হাওয়ার স্রোতে বোনা।

কৃষকের প্রতি জন্মলাগা শ্রদ্ধা, ভাবনার দীপ্তি,
মাটির গন্ধে, বর্ষার ঝরে, খেতের ধানশীষে প্রীতি।
শস্যক্ষেতের প্রতিটি শীর্ষবিন্দু যেন বিজ্ঞানের সূত্র,
প্রকৃতির ছন্দে মিলেছে মানবিক মেধার সঙ্গীত।

শিক্ষা শেষে রসায়নবিদের চাকুরি,
বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থায় নিয়োজিত।
অণু অণুর মিলন, বিকারণের জ্যোতি—
ক্ষুদ্র পরিবর্তনেও উদ্ভাসিত হয় নতুন জগত।

প্রতিক্রিয়ার তাপে লুকিয়ে থাকে সৃষ্টির নিয়ম,
স্থিরতা ও আন্দোলনের নীরব সমীকরণ।
পৃথিবীর অণু থেকে তারা—সবকিছুতেই মনোনিবেশ,
বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও প্রকৃতির নীরব ছন্দে খুঁজে আলো।

১৯৯০ সালে বিএসসি—দ্বিতীয় বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষার আলয়।
হৃদয় নদীর গভীরতা, পাহাড়ের অটল ছায়া,
ঝড়-ঝাপটা দেখেও দমে যায়নি বল।

কৃষক উন্নয়নে জাগ্রত মন,
মাটি, নদী, আকাশ—শিক্ষার শিবিরের প্রমাণ।
মোঃ গোলাম মোস্তফা আকন্দ—রাওনাটের কৃতি সন্তান,
রেজাল্টের রেকর্ড আজও অটুট,
ফুলের হাসি, বাতাসের স্রোতে ছড়িয়ে প্রাণ,
অমলিন দ্যুতি ঝলক দিল কোল আলোয়।

মেহমান মানুষের সেবা, দীন কল্যাণ,
জীবনের প্রতিটি ধাপেই আদর্শ।
আল্লাহর নুর, ফাতিহার আশীর্বাদে পথ সুপ্রকাশ,
জীবনের গল্প হয়ে উঠুক নক্ষত্র আলোকপ্রকাশ।

অমলিন দ্যুতি, নুরের জ্যোতি—প্রকৃতির আলয়,
শিক্ষা, সেবা ছোঁয়া হোক চিরন্তন।
বাতাস, নদী, পাহাড়—জীবন দর্শন,
মেঘের আঁকশিতে লেখা ধৈর্য্য, প্রেম, মানবিক সন।

জ্ঞানচর্চা, দর্শন, প্রকৃতি, রসায়ন—সব মিলিয়ে
নব যুগের প্রেরণা হয়ে উঠুক অমলিন জ্যোতি,
বিদ্রোহী রশ্মি, অমলিন আলো, চিরন্তন উৎসাহ,
সমস্ত মানবজাতির জন্য এক নতুন প্রভাত।
----------------------------------------------------------------


১৯-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।