সাহসী নারী
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
সাহসী নারী
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া, গাজীপুর
********************************************
টোক ইউনিয়নের ডুমদিয়া গ্রামে, লাল মাটির কোলে,
জন্ম নিলো সে—মোছলেমা আক্তার জলি, পিতার আবদুল মোতালিব, মাতার আয়েশা ছিদ্দিকার কোলজোড়ে।
চতুর্থ সন্তান, নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে,
স্বপ্নের পাখি, বেঁচে থাকার অদম্য প্রেরণায় ভরা।
বালিকা বেলায় বিয়ে হলো মৈশন গ্রামে,
কিন্তু লেখাপড়ার আলো নিভেনি অন্তরে।
কোলজোড়ে ফুটফুটে কন্যা, জীবন দিল নতুন গান,
গ্রামীন অসাম্যবাদী চেতনায় ঢেকে গেলো স্বপ্নের মায়া।
ভেঙে গেল বিয়ের বাঁধন, নীরব যন্ত্রণার ছায়া,
মুখ থুবড়ে পড়ে স্বপ্নময় জীবন, যেন অন্ধকারে ফাঁকা।
তবু থেমে থাকলো না জলির অগ্রযাত্রা,
মেয়েকে রেখে পাড়ি দিল প্রতিবেশী দেশ—ভারতপথে তার ভ্রমণ শুরুর।
হায়দ্রাবাদের হোটেলে, ফুড এন্ড বেভারেজে প্রশিক্ষণ,
চাকুরি নিলেন, স্বপ্নের ডানাগুলো মেলাতে শুরু হলো পাপড়ির গান।
কয়েক বছর পর মালদ্বীপ, হোটেল ও রিসোর্টে কর্মসংস্থান,
নয়নাভিরাম সমুদ্র, বিশালতার হাতছানি—তার হৃদয়ে প্রবাহিত প্রাণ।
গাজীপুরের কাপাসিয়ার লাল মাটির স্পর্শে জন্মা মেয়েটি,
স্বপ্ন দেখলো সমুদ্রের তলদেশের রহস্যে।
অর্থসংকট কাটিয়ে, ছয় মাসের স্কুবা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন,
স্বাধীনতার ডানা মেললো, আর ফিরে তাকাতে হয়নি কখনো।
অর্থনৈতিক সফলতা ধরা দিল,
বাংলাদেশ থেকে নিয়ে এলেন তার একমাত্র কন্যাকে পাশে।
সমুদ্রের তলদেশে অদম্য সাহসিকতা,
জলি আন্তর্জাতিক খবরে হয়ে উঠলো আলোচিত নারী।
“প্রথম আলো” পত্রিকা, ২০১৩ সালে সচিত্র প্রতিবেদন ছাপলো,
বাংলাদেশের অসাধ্য সাহসী মেয়েটির গৌরবময় কাহিনী জানালো বিশ্ব।
একদিন কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ধনাঢ্য বৃটিশ নাগরিকের সাথে পরিচয়,
জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু, শূন্যতা দূরে, উচ্চতায় পা।
সমুদ্রের তলদেশ, বিত্তের বৈভব,
সবকিছু পেয়েও অতীতের স্মৃতি কাঁদায় অন্তরে।
কাপাসিয়ার সবুজ জমিন, শরতের শিশির বিন্দু—স্মৃতির আলো,
গুডলাক, সাহসী নারী, আমাদের গর্ব, ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকো চিরকাল।
-----------------------------------------------------------
২০-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।