স্বপ্নদ্রষ্টা সলিমুল্লাহ
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
স্বপ্নদ্রষ্টা সলিমুল্লাহ
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
**************************************
১৮৭১ সালের ৭ই জুন
ঢাকার আকাশে জ্বলে উঠল অগ্নিশিখা,
নওয়াব সলিমুল্লাহ— জনতার দিকপা।
১৯০১ সালের ৭ই ডিসেম্বর
আহসান মঞ্জিলে প্রথম জ্বলে বিজলি বাতি,
বিদ্যুতের আলোয় বাংলার মাটি।
আহসানউল্লাহর হাত ধরে এলো বিদ্যুৎ জয়,
পুত্র সলিমুল্লাহর স্বপ্নে তবু আরও নয়।
১৯০২ সাল
দান করলেন এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা,
ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল গড়ে উঠল দৃপ্ত শিখা।
আজকের বুয়েট সেই অগ্নিসাক্ষী,
সলিমুল্লাহর ত্যাগেই বাংলাদেশ গড়ল বাঁধভাঙা রাখী।
১৯০৩ সাল
লর্ড কার্জনের কানে বজ্রবাণী শোনালেন তিনি,
“পূর্ববঙ্গ-আসাম চাই”— বজ্রনাদ ধ্বনি।
অভিজাত সমাজ তেড়ে এলো রণ,
তবু সলিমুল্লাহর বুক হল অটল শিখর।
১৯০৬ সাল
অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ গড়লেন বজ্রধ্বনি,
শোষিত মুসলিমের জাগরণে উঠল রক্তবাণী।
শতবর্ষের গোলামী ভেঙে জ্বলে উঠল শিখা,
সলিমুল্লাহর ত্যাগে বাংলার হৃদয় দিকপা।
১৯১১ সালের ২৯ আগস্ট
কার্জন হলে তোলেন বজ্রকণ্ঠ দাবি—
“ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় চাই,
জ্ঞানের আলো চাই, বাংলার আত্মা জাগাই!”
জনতার ঢেউ কাঁপালো সভাঘর,
অভিজাত-স্বার্থান্ধরে কাঁপল অন্তর।
১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি
কলকাতায় রহস্যমৃত্যু, বলা হলো হৃদরোগ,
আসলে ষড়যন্ত্রের আগুনে নিভে গেল প্রদীপের যোগ।
লাশ এল ঢাকায়, বেগমবাজারে সমাধি,
কিন্তু বাংলার হৃদয়ে অমর তাঁর কীর্তিখানি।
বজ্রনাদ
হে সলিমুল্লাহ! তোর দানেই গড়ল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,
তোর রক্তে গড়া বুয়েট, জ্ঞানের আলোকময়।
তুই মুসলিম লীগের বীজ বপন করলি প্রাণে,
তুই শোষিতের মুক্তি আনলি বাংলার গানে।
শোষক-স্বার্থান্ধ্র, ব্রাহ্মণ্যবাদী দানবরা জানুক—
“সলিমুল্লাহ অমর, অমর, বাংলার বুক!”
২১-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।