মৃত্যুঞ্জয়ী বিপ্লবী
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

মৃত্যুঞ্জয়ী বিপ্লবী
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
***************************************
জন্ম ও শৈশব
--------------------------
ভোলার কোড়ালিয়ায় ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ।
পিতা মৌলভী আজহার আলী ও মাতা ফাতেমা বেগম।
শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন সাহসী ও দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত।

শিক্ষা ও ছাত্রজীবন
-----------------------------------------
ভোলা সরকারি হাই স্কুল ও বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি অর্জন।
ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে সক্রিয়, ইকবাল হলে ভিপি ও ডাকসুর সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম
--------------------------------------
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক প্রধান চার নেতার একজন।
স্বাধীনতার জন্য সাহসী নেতৃত্ব ও সংগ্রামের মাধ্যমে জাতিকে অনুপ্রাণিত।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন, বঙ্গবন্ধুকে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামক উপাধি প্রদান।

রাজনৈতিক জীবন ও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব
--------------------------------------------
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগদান।
১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী।
২০১৪-২০১৮ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রী।
জাতীয় সংসদে বারবার নির্বাচিত, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।

পারিবারিক জীবন
--------------------------------
১৯৬৪ সালে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে বিবাহ।
এক কন্যা, তাসলিমা আহমেদ জামান, পেশায় চিকিৎসক।

সাহিত্যকর্ম
---------------------------
গ্রন্থসমূহ: ‘ইতিহাস কথা কয়’, ‘মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু’,
‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক’, ‘বঙ্গবন্ধুর চেতনা ও আজকের বাংলাদেশ’, ‘একাত্তরের গণহত্যা’।

সম্মাননা ও অবদান
-------------------------------------
বাংলাদেশের মুক্তি, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথপ্রদর্শক।
নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত জাতি।

জীবনাবসান
---------------------------------------
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রীঃ জীবনের অবসান।
প্রার্থনা: আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
*****************************************************
মৃত্যুঞ্জয়ী বিপ্লবী
-------------------------------------

ভোলার কোড়ালিয়ায় জন্ম, বিপ্লবের আলো ছড়ায়,
শৈশবেই তেজস্বী হৃদয়, সাহসের সিঁড়ি পাড়ায়।
মৌলভী আজহার আলী, ফাতেমা বেগমের সন্তান,
দেশপ্রেমে পূর্ণ, দায়িত্বে অদ্বিতীয় প্রতিভান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে জ্ঞান অর্জন,
ছাত্ররাজনীতিতে ঝড় তুললেন, নেতৃত্বে অদম্য দীক্ষা গ্রহণ।
ইকবাল হলে ভিপি, ডাকসুর সর্বদলীয় নেতা,
ছাত্রসংগ্রামে ঝড়ে ভাঙলেন দাসত্বের ঘেরা।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহরে বাজল ধ্বনি,
বঙ্গবন্ধুকে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে করলেন মহান সম্মান।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সাহসী শিরোমণি হলেন,
মুজিব বাহিনীর নেতৃত্বে দেশের মুক্তি নিশ্চিত করলেন।

মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে শিল্প-বাণিজ্যের দায়িত্ব নিলেন,
জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে দেশের কল্যাণ বিলিন।
পারিবারিক জীবনে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে বন্ধন,
কন্যা তাসলিমা আহমেদ জামান, গড়ে সংসার স্বর্ণবন্দন।

সাহিত্যের কলমে ইতিহাসের কথা বললেন নির্ভীক,
‘ইতিহাস কথা কয়’, ‘মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু’ লেখা দীপ্তিক।
একাত্তরের গণহত্যা, চেতনা ও সংগ্রামের বাণী,
দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ জাতি, স্বপ্নের মুক্তি জানি।

তোফায়েল আহমেদ, মৃত্যুঞ্জয়ী বিপ্লবী মহান,
প্রেরণার দীপ জ্বেলে জাতিকে অন্ধকার ভাঙান।
সাহসিকতা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেমে চির অমলিন,
বিপ্লবের তাণ্ডবধ্বনি স্মৃতিতে চিরনতুন।

আজ ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রীঃ, জীবন অবসান,
স্মৃতির পটে অমলিন, ত্রাণসদৃশ প্রাণ।
আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন,
দেশপ্রেম ও সাহসের নক্ষত্র চির জ্যোতি দান করুন।

ভোলার কোড়ালিয়ার সন্তান, জাতির গর্বিত সন্তান,
স্বাধীনতার পথে উজ্জ্বল, সাহসী দিশারী মহান।
মুক্তির সংগ্রাম, নেতৃত্ব, কলমের দীপ্তি,
সব মিলিয়ে গড়ে দিলো মৃত্যুঞ্জয়ী বিপ্লবী কবিতার ছবি।

নেতৃত্বের বাতাসে ভাসে বিপ্লবের ঝড়,
দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয় নতুন প্রজন্মের ধ্রুবতর।
তোফায়েল আহমেদের নাম চিরকাল ধ্বনি বাজাবে,
বিপ্লবের তাণ্ডবময় সুর জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে।

মৃত্যুঞ্জয়ী বিপ্লবীর চেতনা, সাহস ও প্রেরণা,
জাতিকে করবে শক্তিশালী, অদম্য ও অবিনশ্বর সঙ্গী চিরকাল।
---------------------------সূত্র- অনলাইন


২৯-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।