কিংবদন্তির মৃত্যু নাই
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

কিংবদন্তির মৃত্যু নাই
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************************

জন্ম ও শৈশব (১৯৪৩):
-------------------------------------
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর, ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্ম নেন তোফায়েল আহম্মদ।
ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে ছিল মেধা, সাহস ও নেতৃত্বের আলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে রাজনীতির প্রতি অনুরাগ তাঁকে
এক নতুন পথের যাত্রী বানায় — মানুষের জন্য নিবেদিত এক জীবন।

ছাত্রনেতা ও বঙ্গবন্ধুর সহযাত্রী (১৯৬৯):
----------------------------------------------
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান —
যে ঐতিহাসিক মঞ্চে শেখ মুজিবুর রহমান পেলেন “বঙ্গবন্ধু” উপাধি,
সেই মঞ্চে ছিলেন তোফায়েল আহম্মদ,
তখনকার ডাকসুর ভিপি হিসেবে তিনি ছিলেন আন্দোলনের অগ্রনায়ক।
তিনি যুব সমাজকে দিয়েছিলেন জাগরণের অগ্নি,
যে অগ্নি আজো স্বাধীনতার ইতিহাসে জ্বলে।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক (১৯৭১):
--------------------------------------------
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়,
তোফায়েল আহম্মদ ছিলেন মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক প্রধান।
দেশমাতৃকার মুক্তির আহ্বানে সাড়া দিয়ে
তিনি সংগঠিত করেছিলেন স্বাধীনতার সৈনিকদের।
রক্ত ও আগুনের যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর সাহস
ছিল এক আলোকিত ইতিহাস —
দেশের জন্য জীবন উৎসর্গের এক প্রতিজ্ঞা।

স্বাধীন বাংলাদেশে নেতৃত্ব (১৯৭২–২০২৫):
----------------------------------------------------
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারে রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি।
এরপর বহুবার নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদ সদস্য।
তিনি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী,
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য,
আর সর্বোপরি— বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন নির্ভরযোগ্য সৈনিক।

ভোলার উন্নয়ন, শিক্ষা, ও মানবসেবায়
তিনি ছিলেন এক নিবেদিত প্রতীক।
তাঁর রাজনীতি ছিল পদ নয়, নীতির রাজনীতি।

ঐক্যের দূত ও জাতির শ্রদ্ধেয় নেতা (১৯৮০–২০২৫):
------------------------------------------------
যখন রাজনীতি ভাঙনের মুখে,
তখন তোফায়েল আহম্মদ বলতেন —
“আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হবো।”
তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর দর্শনের এক জীবন্ত প্রতিরূপ,
যিনি ভোলার গাঁও থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছিলেন
অদম্য সততা, ত্যাগ ও আদর্শের মাধ্যমে।

বিদায় ও উত্তরাধিকার (২০২৫):
-----------------------------------------
২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর,
চলে গেলেন এই মহান মানুষ।
জাতি হারালো এক কিংবদন্তি,
ভোলা হারালো তার অভিভাবক,
আর ইতিহাস পেল এক অবিস্মরণীয় নাম।
তবু মৃত্যু কেবল দেহের —
তোফায়েল আহম্মদ আজো জীবিত বাংলাদেশের হৃদয়ে।
************************************************
“কিংবদন্তির মৃত্যু নাই”
--------------------------------------------

কিংবদন্তির মৃত্যু নাই —
তিনি সময়ের সন্তান, ইতিহাসের আলোকশিখা।
যে মাটিতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বুনেছিলেন,
সে মাটি আজো গায় তোফায়েলের গান।

ভুল ছিল, তবু মহৎ তাঁর অভিপ্রায়,
মানুষের জন্য ছিল নিঃস্বার্থ দায়।
ক্ষমতার শিখরে থেকেও বিনয়ী এক প্রাণ,
যে প্রজন্মকে শিখিয়েছেন সত্যের মান।

যখন রাজনীতি হারায় নীতি ও মানবতা,
তখন তাঁর নাম উচ্চারণ হয়— আলোর ব্যঞ্জনা।
যে প্রদীপ নিভে না মৃত্যুর পরে,
তাঁর শিখা জ্বলে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে।

ভোলার বাতাসে আজো বাজে তাঁর ধ্বনি—
“ঐক্যই শক্তি, দেশই আমাদের প্রাণ।”
নেতৃত্ব মানে নয় কেবল পদ-মুকুট,
বরং ভালোবাসা, ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ প্রাণ।

বিপ্লবী ছিলেন, তবু কোমল হৃদয়ে শান্তির প্রার্থনা,
মানবতার প্রেমে গড়া তাঁর অনন্য দৃষ্টান্ত।
তাঁর প্রস্থান এক গভীর বেদনা,
তবু তিনি বেঁচে আছেন, মানুষের হৃদয়ে অনন্ত।

হে মহান আল্লাহ!
তাকে মাফ করুন, জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন — আমীন।
যে মানুষ সত্য, ন্যায় ও আদর্শের জন্য লড়েছে,
তাঁর মৃত্যু কেবল দেহের — আত্মা অমর,
বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি অক্ষয় কিংবদন্তি।

কালজয়ী শ্রদ্ধাঞ্জলি
--------------------------------
তোফায়েল আহম্মদ — এক নাম, এক ইতিহাস, এক প্রেরণা।
জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাঁকে —
যিনি ছিলেন আলোকিত বাংলাদেশের নির্মাতা,
এবং ইতিহাসের বুক জুড়ে লেখা এক অমর নাম।
----------------------------সূত্র অনলাইন।


০৫-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।