কিংবদন্তির মৃত্যু নাই
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
কিংবদন্তির মৃত্যু নাই
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুুর
*******************************************
১. শৈশব ও শিক্ষা
-----------------------------
জন্ম: ২২ অক্টোবর ১৯৪৩, কোড়ালিয়া গ্রাম, দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন, ভোলা (তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলা), ব্রিটিশ ভারত।
পিতা-মাতা: আজহার আলী ও ফাতেমা বেগম।
মাধ্যমিক শিক্ষা: ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে।
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা: ১৯৬২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মৃত্তিকাবিজ্ঞানে (BSc 1964, MSc পরবর্তীতে)।
বিবাহ ও কন্যা: ১৯৬৪ সালে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে বিবাহ। একমাত্র কন্যা: তাসলিমা আহমেদ “মুন্নী”।
২. ছাত্র রাজনীতি ও গণআন্দোলন
--------------------------------------------
১৯৬৬–৬৭: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল-এ সহ-সভাপতি (ভিপি)।
১৯৬৮–৬৯: ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত; সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক।
১৯৬৯ (২৩ ফেব্রুয়ারি): ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু উপাধি ঘোষণা অনুষ্ঠানে ভূমিকা।
৩. মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী ভূমিকা
----------------------------------------------
১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়; মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক প্রধান।
১৯৭২ (১৪ জানুয়ারি): প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব ও প্রতিমন্ত্রী।
৪. সংসদীয় জীবন ও মন্ত্রিত্ব
-----------------------------------
১৯৭৩: প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে এমপি।
মন্ত্রিত্ব:
শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী (১৯৯৬–২০০১)
বাণিজ্য মন্ত্রী (২০১৪–২০১৯)
সংসদীয় দায়িত্ব: আওয়ামী লীগের নেতা, সংসদীয় কমিটি চেয়ারম্যান।
নির্বাচনী এলাকা: ভোলা-১, ভোলা-২ ও বাকেরগঞ্জ-১।
৫. সামাজিক ও উন্নয়নমূলক অবদান
-----------------------------------------
ভোলা অঞ্চলে সড়ক, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগের উন্নয়ন প্রকল্প।
রাজনীতিতে নৈতিকতা ও আদর্শের প্রতীক।
স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা।
৬. রাজনৈতিক দর্শন
--------------------------------
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর।
মূল দর্শন: “দেশপ্রেম, সততা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া।”
আদর্শ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে দেশ ও দলকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা।
৭. জীবনের শেষ অধ্যায়
-----------------------------------
২০২৩–২০২৫: বার্ধক্যজনিত জটিলতা, একাধিক স্ট্রোক; হুইলচেয়ার ব্যবহার।
৮. মৃত্যু
------------------------------
তারিখ ও স্থান: ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর, রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
মৃত্যুকালে বয়স: ৮২ বছর।
সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও, স্বজন ও পার্টির চূড়ান্ত ঘোষণা কিছুটা সময় নেয়।
৯. উত্তরাধিকার ও সম্মান
-----------------------------------------
একমাত্র কন্যা: তাসলিমা আহমেদ মুন্নী।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে “বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক সৈনিক” হিসেবে পরিচিত।
ইতিহাসে একজন নিবেদিত, নীতিবান ও সৎ রাজনীতিক হিসেবে স্মরণীয়।
***********************************************
“কিংবদন্তির মৃত্যু নাই”
----------------------------------------
কিংবদন্তির মৃত্যু নাই —
তিনি সময়ের সন্তান, ইতিহাসের আলোকশিখা।
যে মাটিতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বুনেছিলেন,
সে মাটি আজো গায় তোফায়েলের গান।
ভুল ছিল, তবু মহৎ তাঁর অভিপ্রায়,
মানুষের জন্য ছিল নিঃস্বার্থ দায়।
ক্ষমতার শিখরে থেকেও বিনয়ী এক প্রাণ,
যে প্রজন্মকে শিখিয়েছেন সত্যের মান।
যখন রাজনীতি হারায় নীতি ও মানবতা,
তখন তাঁর নাম উচ্চারণ হয়— আলোর ব্যঞ্জনা।
যে প্রদীপ নিভে না মৃত্যুর পরে,
তাঁর শিখা জ্বলে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে।
ভোলার বাতাসে আজো বাজে তাঁর ধ্বনি—
“ঐক্যই শক্তি, দেশই আমাদের প্রাণ।”
নেতৃত্ব মানে নয় কেবল পদ-মুকুট,
বরং ভালোবাসা, ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ প্রাণ।
বিপ্লবী ছিলেন, তবু কোমল হৃদয়ে শান্তির প্রার্থনা,
মানবতার প্রেমে গড়া তাঁর অনন্য দৃষ্টান্ত।
তাঁর প্রস্থান এক গভীর বেদনা,
তবু তিনি বেঁচে আছেন, মানুষের হৃদয়ে অনন্ত।
হে মহান আল্লাহ!
তাকে মাফ করুন, জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন — আমীন।
যে মানুষ সত্য, ন্যায় ও আদর্শের জন্য লড়েছে,
তাঁর মৃত্যু কেবল দেহের — আত্মা অমর,
বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি অক্ষয় কিংবদন্তি।
কালজয়ী শ্রদ্ধাঞ্জলি
------------------------------------
তোফায়েল আহম্মদ — এক নাম, এক ইতিহাস, এক প্রেরণা।
জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাঁকে —
যিনি ছিলেন আলোকিত বাংলাদেশের নির্মাতা,
এবং ইতিহাসের বুক জুড়ে লেখা এক অমর নাম।
----------------------------------------------------সূত্র অনলাইন।
০৫-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।