বঙ্গতাজ
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

বঙ্গতাজ
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
জীবনী ও রাজনৈতিক জীবন
-----------------------------------

বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ

বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ (১৯২৫–১৯৭৫) বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় তাঁকে হত্যা করা হয়।

জন্ম ও শৈশব
----------------------------------

তাজউদ্দীন আহমদের জন্ম ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে। পিতা মৌলভী মো. ইয়াসিন খান এবং মাতা মেহেরুন্নেসা খান। শৈশবে তিনি ছিলেন শান্ত, সংযমী ও মিতভাষী। বাল্যকাল থেকেই গাছপালার পরিচর্যা তাঁর প্রিয় ছিল।

শিক্ষা জীবন
-------------------------------

তিনি জগন্নাথ কলেজ থেকে ম্যাট্রিক ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় যথাক্রমে দ্বাদশ ও চতুর্থ স্থান লাভ করেন। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবন
-----------------------------------

১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি মুসলিম লীগ থেকে বেরিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ গঠন করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন এবং কারাবরণ করেন। ১৯৬৪ সালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলীয় সম্মেলনে যোগদান করেন এবং একই বছর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন অবদান
----------------------------------

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে তাজউদ্দীন আহমদ প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়
-----------------------------------------

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে তাজউদ্দীন আহমদসহ তিন জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে বন্দি করা হয়। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় তাঁকে হত্যা করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন ও দর্শন

তাজউদ্দীন আহমদ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি মুজিবনগর সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মৃত্যু ও পরবর্তী প্রভাব
------------------------------

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর, তাজউদ্দীন আহমদসহ তিন জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও এম মনসুর আলীকে বন্দি করা হয়। তাঁদেরকে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয় এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

স্মৃতিচিহ্ন ও শ্রদ্ধা
---------------------------------------

তাঁর জন্মভিটা গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে অবস্থিত। এটি বর্তমানে একটি স্মৃতিসৌধ হিসেবে সংরক্ষিত। এছাড়া, তাঁর নামে গাজীপুরে একটি সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে


সার্বিক মন্তব্য
-----------------------------

তাজউদ্দীন আহমদের জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। তাঁর নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধকালীন অবদান এবং আত্মত্যাগ জাতিকে চিরকাল প্রেরণা জোগাবে।
***********************************************************************
বঙ্গ তাজ
---------------------------------------

বঙ্গের বুকে জেগে ওঠে এক দীপ্তিমান নক্ষত্র,
যার দীপ্তিতে আলোকিত হয় স্বাধীনতার পথ।
তাঁর নাম তাজউদ্দীন, বীরের প্রতীক,
যার হৃদয়ে জ্বলত স্বাধীনতার অগ্নিশিখা।

শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, বুক চিতিয়ে,
তিনি গড়েন মুক্তির সেতু, অটুট ও দৃঢ়।
মুজিবনগর সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী,
যিনি নেতৃত্ব দেন স্বাধীনতার সংগ্রামে।

স্বাধীনতার পর, ষড়যন্ত্রের শিকার,
বন্দি হন কারাগারে, মৃত্যুর মুখোমুখি।
৩ নভেম্বর, ১৯৭৫, সেই কালো দিন,
যেদিন বঙ্গতাজ হারায় তাঁর জীবন।

তবু তাঁর আত্মত্যাগ চিরকাল অম্লান,
বঙ্গের বুকে তিনি রয়ে যান স্মরণীয়।
বঙ্গতাজ, তুমি আমাদের গর্ব,
তোমার চেতনায় আমরা এগিয়ে যাব অদম্য।
-------------------------------- সূত্র অনলাইন।


০৮-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।