স্বভাব কবি
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

স্বভাব কবি
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
----------------------------------------
গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৬ জানুয়ারি ১৮৫৫ সালে ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রামনাথ দাস এবং মাতা আনন্দময়ী দেবী। গরিব পরিবারে জন্ম হওয়া সত্ত্বেও ভাওয়াল রাজপরিবারের সহায়তায় তিনি শিক্ষাজীবন চালিয়ে যান। ভাওয়াল রাজা কালীনারায়ণ তাঁকে মাসিক ৪ টাকা করে বৃত্তি প্রদান করতেন এবং রাজবাড়ি থেকে এক একর জমি তাঁর পরিবারের বসবাসের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল।

প্রাথমিক শিক্ষা তিনি ভাওয়ালরাজ প্রতিষ্ঠিত জয়দেবপুর মাইনর স্কুলে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা নর্মাল স্কুলে ভর্তি হন, এক বছর পর ঢাকা মেডিক্যাল স্কুলে অধ্যয়ন করেন। তবে তাঁর অব্যবস্থিত চিত্তের কারণে শিক্ষাজীবন অনেকখানি ব্যাহত হয় এবং তিনি সারা জীবন দুঃখভোগ করেন।

কর্মজীবন
----------------------------------
গোবিন্দচন্দ্র দাস বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির স্নেহচ্ছায়ায় চাকরি করেছেন, আবার নিজ ইচ্ছায় ছেড়েও দিয়েছেন। শেষ জীবনে মুক্তাগাছার জমিদার জগৎকিশোর আচার্য চৌধুরীর বৃত্তিমাত্র সম্বল ছিল। ভাওয়াল রাজপরিবারের প্রধান কর্মচারী কালীপ্রসন্ন ঘোষের সঙ্গে বিরোধের ফলে তিনি ভাওয়াল থেকে নির্বাসিত হন।

কলকাতায় ‘বিভা’ পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন, এবং শেরপুরে ‘চারুবার্তা’ কাগজের অধ্যক্ষ পদে কাজ করেছেন। অসুস্থতার কারণে শেষ জীবনে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁর চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করেছিলেন।

সাহিত্যকর্ম
-------------------------------------------
গোবিন্দচন্দ্র দাসের কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রকৃতির বর্ণনা, গভীর বাস্তববোধ, মানবজীবনের চিত্র এবং প্রগাঢ় পত্নীপ্রেম প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর আন্তরিকতা ও স্পষ্টতার কারণে তিনি ‘স্বভাব কবি’ নামে পরিচিত। তিনি অ্যালেন হিউম রচিত ‘অ্যায়োএক’ কবিতা অনুবাদের জন্যও খ্যাতি অর্জন করেন। ‘স্বদেশ’ কবিতায় শিক্ষিত বিলেতফেরত সমাজকে তীব্র কশাঘাত করেছেন।

তিনি মোট ১০ খানি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো:

প্রসূন (১৮৭০)

প্রেম ও ফুল (১২৯৪ বঙ্গাব্দ)

কুঙ্কুম (১২৯৮ বঙ্গাব্দ)

কস্ত্তরী (১৩০২ বঙ্গাব্দ)

চন্দন (১৩০৩ বঙ্গাব্দ)

ফুলরেণু (১৩০৩ বঙ্গাব্দ)

মগের মুল্লুক (ব্যঙ্গ কাব্য)

তাঁর কবিতার বৈশিষ্ট্য হলো: অমার্জিত হলেও আন্তরিকতা, স্বভাবের ছোঁয়া, নারী-পুরুষের প্রেম, দেশপ্রেম এবং গ্রামীণ প্রকৃতির চিত্র। কিছু কবিতা এখনও অপ্রকাশিত রয়েছে। এছাড়া গীতার কাব্য অনুবাদও করেছেন।

মৃত্যু
------------------------------------------------
গোবিন্দচন্দ্র দাস ১ অক্টোবর ১৯১৮ সালে ঢাকার নারিন্দায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সারাজীবন দারিদ্র্য ও একাকীত্বে কাটিয়েছেন, তবে তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।
************************************************************

স্বভাব কবি গোবিন্দচন্দ্র দাস:
------------------------------------------------------------

গাজীপুর ধীরাশ্রমের কৃতি সন্তান,
বাংলা সাহিত্যের অত্যতম কবি, বিদ্রোহের গান।
গোবিন্দচন্দ্র দাস, স্বভাব কবি, তেজস্বী মন,
যেন ঝড়-ঝঞ্ঝার মতো শব্দে আকাশ চূর্ণ।

রাজপথে প্রতারণা, প্রজাদের করুণ ক্রন্দন,
অন্যায় শাসকের কাছে চিত্তের প্রতিবাদ রন্ধন।
মগের মুল্লুকে বোনা বিদ্রোহী তান,
বেঁচে থাকার লড়াই, রক্তের অগ্নি ভাসান।

প্রেমময়ী মমতা, পত্নীর আঁচলে ঢাকা হৃদয়,
মানবতার ছবি ফুটে ওঠে তাঁর সৃষ্টির ছায়ায়।
গ্রাম্য প্রকৃতি, ফুলের সুবাসে মিশে,
দুঃখ, আশা, বিদ্রোহ—সত্যের শিখায় জ্বলে।

কলমের তোপে শিক্ষা, পত্রিকায় দেশপ্রেম,
অন্তরে বাজে প্রতিটি শব্দের তীব্র প্রেম।
অমর হয়ে গেছে গোবিন্দচন্দ্র দাসের বাণী,
শ্রোতাদের হৃদয়ে জাগে অনন্ত আনন্দময় সানি।

মানবতা, প্রেম, প্রকৃতি, দেশপ্রেমের ছোঁয়া,
জাগে পাঠকের অন্তরে অনন্ত অমর অনুরাগের ধোঁয়া।
স্বভাব কবি, বিদ্রোহী, তীক্ষ্ণ, সজাগ,
বাংলা সাহিত্যের অতল তলে আজও তাঁর রণকথা বাজ।
------------------------------- সূত্র অনলাইন।


০৯-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।