জীবন এক টুকরা ফসলি জমিন
- ফয়জুল মহী

জীবন এক টুকরা ফসলি জমিন
ফ য় জু ল ম হী

ছয় মাসের ছুটি আজ শেষ। ফিরতে হবে বিদেশ নামক আরেক দেশে অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে, যেটা এক ধরনের খোলামেলা হাজতে-আটক।
বার বার বুকে হাত দিয়ে দেখে মজিদ মিয়া মন খারাপ নাকি উৎফুল্ল। কর্মবীর মজিদ মিয়ার মায়া হয় নতুন বউটার জন্য এই পিচ্ছিল সংসার নামক যুদ্ধক্ষেত্রে মেধা ও সততা দিয়ে লড়াই করে টিকে থাকতে পারবে কিনা সন্দেহ হয়। নাকি কটু বাক্যের অস্ত্র সজ্জিত সংসার ছেড়ে বৈরাগীনি হতে হয় ।

মজিদ মিয়ার মনে পড়ে বিয়ের সময়ের কথা, ছোট্ট কামরাটায় পায়চারি করা দেখে বউ হাতের ইশারায় ডেকে পাশে বসতে বলে। জড়োসড়ো হয়ে তার পাশে বসা দেখে হোসনা বেগম মিটিমিটি হাসে।
সেই প্রথম নীরবতা ভেঙ্গে বলে “আপনি এমন নির্জীব বস্তুর মত বসেছেন কেনো, আরাম করে বসেন আমার পাশে”।
মজিদ মিয়া দুই হাতে তার মুখ ধরে আদর দিতে উদ্যত হয়----।
টেপ রেকর্ডারে কবিতা বাজে তখন।

ভালোবাসা গভীর হলে মন চঞ্চল হয় দুইজনার জোট বাঁধতে চায় এক হওয়ার
আর দুইজন এক হলে শরীরের প্রশ্ন আসবেই
ভালোবাসা মানে মন ও শরীর
মন চঞ্চল আর শরীর চাহিদা ।
ভালোবাসা যেত গভীর হবে মনের চঞ্চলতাও বাড়তে থাকবে।

কবিতার মত হোসনা বেগমও বলেঃ
দুইজনে নির্জনে থাকতে ভালোবাসবো। দুইজনে হাত ধরে পাশাপাশি চলবো
তবুও চলার হবে না শেষ। কখনো কখনো মায়াবী লজ্জাময় চোখে দেখবো তোমাকে ইশারা করবে চোখ, আর বলবে কাছে আসো আরো কাছে আরো কাছে একদম রক্তমাংশের দেহের অতল গভীর অন্তরে।

মজিদ মিয়া উত্তর দেয়ঃ
কাঁশফুলের মত কিংবা সাদা সারসের মত একটা সাদা শাড়ী পরবে তুমি । সাথে কালো ব্লাউজ কালো ব্রা প্যান্টি। হাতে লাল চুড়ি কপালে লাল টিপ। সাজবে তুমি এমন করে আমার জন্য কখনো সখি।

হোসনা বেগম বলেঃ
তুমি জীবনের স্বাদ পাওনি প্রবাস থেকে তাই আমার সমস্ত সত্তা উজাড় করে তোমাকে জীবনের স্বাদ দিতে চাইবো। চলতে চলতে বুঝবে জীবন এক রঙ্গিন কানন।

আস্তে আস্তে করে একটা একটা করে তাদের বাঁধা শিকল ভাঙতে হবে আর তা একদিনে হবে না। অপেক্ষা করতে হবে। এই সংসার হবে মজিদ মিয়া আর হোসনার।

গল্পঃ প্রবাস (৮)


১৮-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।