শান্ত মাঝি
- কেয়ন ইমরান

বহু প্রতিক্ষার পর আঁধার কেটে গেল!
পূর্ব দিগন্তের সূর্যটা প্রায় মাঝামাঝি,
হিম হওয়া পৌষ তাপের আঁচ পেল।
নৌকার উপর বসে আছে শান্ত মাঝি।

বাওড়ের জল ঘোলাটে, কুয়াশা মিশে একাকার, কচুরিপানার মাঝে শাপলা ফুটেছে পাড়ের কাছাকাছি।
অবকাশ যাপনে মত্ত্ব কর্মবীর- নেই পানাহার!
চেয়ে দেখি হলুদ ক্ষেতে ওড়ে মৌমাছি।

পরিষ্কার জল নেই- অদূর বাওড়ে শুভ্রতা।
কিশোর ছেলের হাতে শাপলা-পদ্মের ছড়াছড়ি,
হাসিমুখে ফিরছে বাড়ি- যেন খুশির বার্তা।
জীবনের সাথে দেয় পাল্লা সময়ের ঘড়ি।

মাছ খেকো উড়ছে খুব সন্তর্পণে বাওড়ে,
আহার জুটাবার তরে কুয়াশা ভাঙ্গা পরিশ্রম।
না জানি কোথায় পানির পোকা নড়ে,
এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে নিয়ে দম।

শান্ত মাঝি বৈঠা হাতে নৌকা বায়,
ছোট মাছ ধরার জাল উঠাবে সন্তর্পণে।
আহার জোগাড়ের তরে চলে এত ব্যস্ততায়,
বাওড়ের সাথে গভীর মিতালী তার সর্বক্ষণে।

এই হিমবাহে বরফেরও অধিক ঠান্ডা জল।
তবুও এতটুকু কাঁপুনি নেই- দিব্যি জলহস্তী!
যেন টলটলে জলে ফোঁটা সদ্য উৎপল।
এত কষ্ট! দুমুঠো ভাতে হবে স্বস্তি।

শান্ত মাঝি! দূরন্ত বাওড়ের নিটোল জলে।
যেন মাতৃদুগ্ধ ভাবে জলেরে আপনার কাছে।
পোড়ো বেলায় স্বপ্ন দেখে আকাশের নীলে,
তাকিয়ে গগণ পানে ভুলে যায় পিছে।

শীতের দিনে কুয়াশাকে বিদায় জানিয়ে ছুট,
গ্রামের হাটে যায় দিতে মাছের দোকান।
নেই ভয় তার ভূত কিংবা কালকূট,
রাত দশে হয়ে যায় কর্মের অবসান।

শান্ত মাঝির স্বপ্ন কাজ হতে ইস্তফা।
ঘুচাতে চাই বংশগত অনাদর, হেয় পদবী।
কিভাবে হবে, সম্ভব কি কখনও রফা!
মনের মাঝে শুধু এই নিত্য দাবি।


২১-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026