ছাতা-পাখা
- কেয়ন ইমরান

বর্ষা আমার কেড়ে নিল ছাতা।
কেন হল এমন বলো ধাতা?
আমি বৃষ্টিতে ভিজে হয়ে জবজব,
ডাকি তোমায় হে আমার রব।
অতি কষ্টে জীবন অতিবাহিত করলাম,
হারিয়ে ফেলে হাসি আনন্দের দাম।
পূর্ণতা না পেতেই হারিয়ে গেল,
আমার জীবনটা হয়ে গেল এলোমেলো।
গ্রীষ্মের আগুন দিল আমায় পুড়িয়ে,
পাখা হারালো, কে দেবে জুড়িয়ে।
এখন আমি একা, বড় একা
কে করবে শাসন, দেবে বকা।
আজ ছাতা নেই, পাখাও নেই,
জ্বরে মরি, আগুনে পুড়ি এভাবেই।
রাতের আঁধার পরম আত্মীয় আমার,
সেই দার্শনিক আমার কষ্ট দেখার।
ঝিঁ ঝিঁ পোকা উৎসাহের যোগান দাতা,
তাকে শোনায় আমার কান্নার খাতা।
আছে কি এমন তরণী ধরাতে,
পারে কি আমার ওপারে তরাতে?
অবহেলার পাত্র সকলের কাছে আমি।
কি অপরাধ ছিল ওগো স্বামী?
কেন অকালে আমি জীবন সংগ্রামী,
আমার আশা কি এতই অদামী!
আমি রিক্ত, চির রিক্ত সংসারে,
বাস করি আমি ছাদহীন ঘরে।
মাথার উপর উন্মুক্ত আকাশ অসহায়,
অহরহ ঝড়-বৃষ্টির হচ্ছে উদয়।
না জানি কোন কলমে লেখা
আমার লাঞ্চিত, অবাঞ্চিত ভাগ্য রেখা।
বিশ্ব অসহায়ত্ব আমার তকদীর মণ্ডল,
সেথায় জীবন্ত অগ্নি কুপের দঙ্গল।
আমায় জ্বালায়, পুড়ায়, ভষ্ম করে
তবে প্রয়োজন বিদেরা আমায় বরে।
হয় তো পৃথিবীরও প্রয়োজন বোধে
আমায় রেখেছে বাঁচিয়ে তার সাধে।
প্রয়োজনও শেষ হয় তো আমিও শেষ,
যাব তখন ছাতা-পাখার দেশ।


০৯-১১-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026