সোনালী যুগ
- মোমেন চৌধুরী

নবীর ঘর নীরব, তবু তাঁর দাওয়াত জেগে রয়,
বদরের সাহাবিদের চোখে আবারও সেই আলো ঝরে কয়।
আবু বকর (রা.) উঠলেন প্রথম খলিফা হয়ে,
বললেন — “যে নবীকে মানতাম, তিনি তো ইন্তেকাল করেছেন;
কিন্তু যে আল্লাহকে মানতাম, তিনি কখনো মরবেন না।”

মদিনার আকাশে ছড়িয়ে পড়ল সেই দৃঢ়তা,
শুরু হলো ইসলামী একতার দিগন্ততা।
উমর (রা.) এলেন, ন্যায়বিচার যার তলোয়ার,
রোম আর পারস্য নত হলো— সুবিচারের ভার।

তিনি বলতেন —
“ফোরাত নদীর তীরে যদি এক ছাগলও হোঁচট খায়,
উমর তার দায় নেবে আল্লাহর দরবারে!”
এমন ন্যায়বোধে কেঁপে উঠল সিংহাসন-ধারী রাজারা,
আর মানুষ জানল — ইসলাম মানে দয়ার রাজনীতি, নয় ভয়ধারা।

উসমান (রা.) লিখে রাখলেন কুরআনের নূর,
হজরত আলী (রা.) আনলেন জ্ঞানের সুর।
জ্ঞান, বিজ্ঞান, কবিতা, চিকিৎসা—
সব পথেই ইসলাম ছড়াল সভ্যতার দিশা।

দামেস্ক, বাগদাদ, কায়রো, আন্দালুস, কুরআনের শহর,
তাদের বাতাসে ভাসত কলমের জ্বালামুখর।
বৈজ্ঞানিকরা বলতেন, “আলো এসেছে পূর্ব থেকে”—
ইবনে সিনা, আল-বিরুনি, জাবির ইবনে হাইয়ান,
জ্ঞানের প্রতিটি বইতে লেখা— “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”।

মসজিদের গম্বুজে ওঠে নতুন সভ্যতার ঢেউ,
একটি কলমের রেখায় হার মানে হাজার সেনা সৈন্যের বেঁধনশৈল।
এই ছিল উম্মতের সোনালী ভোর,
যেখানে আল্লাহর নামেই শুরু হতো প্রতিটি ভোর।


০৯-১১-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।