বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************************

মুড়ইর মাটিতে জন্ম, চোখে আগুনের নীড়,
শিশুসুলভ ব্যথা ভুলে, বুকে জাগল বিদ্রোহের স্রোত ঝির।
মা-বাবার শূন্যতা,孤 একা হাঁটল পথে,
হৃদয়ে বাজল স্বাধীনতার তেজ, পা ছুটল অমৃতময় স্রোতে।

স্কুলের বেঞ্চে বসে, পড়া নয়, স্বপ্নের গান,
যুগান্তরের পত্রিকা শোনে, কণ্ঠে জাগল দিগন্তের ধ্বনি প্রাণ।
কিশোর বয়স কেবল আঠারো, তবু সাহসের ঢেউ,
অস্ত্র, বোমা, রিভলভার—জ্বলে প্রখর সূর্যরে।

রাতের অন্ধকারে অস্ত্রচর্চা, গোপন ছন্দ,
বোমার ঝড়, বীরত্বের ধ্বনি, বাজল পথে বন্দ।
মুজাফফরপুরের রাস্তায় কিংসফোর্ডের পিছু নিল প্রাণ দিয়ে,
প্রক্সি মৃত্যুর ছায়া, তবু অচল নয় ক্ষুদিরাম সে চিরন্তন হেথায়।

বোমার প্রহরে, শহরের নীরব রাতে,
স্বাধীনতার তেজে দাহ করল অন্তর, চরণে বাজে পাতে।
গ্রেপ্তার হলো সে, জেলে বাঁধা, হাতকড়া কাঁধে,
হাসিমুখে বলল—“দেশের ডাক শুনে যাবই পথের পাঁধে।”

জেলখানার কক্ষে গান, প্রার্থনা ভোরবেলায়,
বন্দেমাতরম! বলে জানালো—মরণ নয়, অনন্তের স্রোত বেলায়।
ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলল—“মৃত্যু নয় বন্দন,
দেশপ্রেমের শক্তি বাজে, শুনো হে আকাশ, আমার ক্রন্দন।”

শহীদ ক্ষুদিরাম বসু, হাসিমুখে উড়ল মুক্তির আকাশে,
সাহসের চিহ্ন হয়ে রইল তরুণ হৃদয়ে, বিদ্রোহের ঢেউ, বীরের দ্যুতি ঝাক।
মাটির দিকে তাকালো, চোখে অশ্রু নয়, জ্বালা,
বুকে বাজল স্বাধীনতার তাণ্ডবী ঢেউ, অবিরাম প্রলয় ঝরা।

প্রত্যেক গ্রাম, শহর, নদীর তীরে বাজে তার নাম,
ক্ষুদিরাম বসু—বিপ্লবের তরঙ্গ, চিরন্তন অমর বীরের কাম।
রাতের অন্ধকারে, ঝড়ের ধ্বনি, গর্জন বাতাসে,
তার সাহসের গল্প গুনছে তরুণ হৃদয়, প্রতিটি পলাশে।

ফাঁসির রশিতে বাঁধা, তবু মাথা উঁচু, অম্লান দৃঢ়,
স্বাধীনতার তেজে জ্বলল প্রাণ, ইতিহাসে অমর হয়ে স্থির।
নজরুলীয় ছন্দে বাজে, বিদ্রোহী তাণ্ডবী গান,
ক্ষুদিরামের নাম উচ্চারিত হয়, যুব সমাজের প্রাণের প্রান।

মুড়ই থেকে কলকাতা, নদীয়া থেকে শহরের পথ,
শ্রদ্ধায় মুখরিত, বাজে বিপ্লবী তরঙ্গের ঝংকারময় ধ্বনি।
ক্ষুদিরাম বসু—শহীদ, বীর, অমর বিপ্লবী,
তার জীবন, তার লড়াই, চিরন্তন অগ্নিশিখা, স্বাধীনতার চিহ্ন অম্লান।

অস্ত্রের ছন্দে, বোমার ঝড়ে, যুবকের সাহসে,
তার নাম হয়ে উঠল চিরন্তন বিদ্রোহের ঢেউ, ইতিহাসের ধ্রুবক তরে।
ফাঁসির মঞ্চে হাসিমুখে, মৃত্যুকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে,
ক্ষুদিরাম বসু দেখাল সাহসের স্রোত, যুবসমাজের পথপ্রদর্শক আলোতে।

আজও তার স্মৃতিতে, তরুণ হৃদয় কেঁপে ওঠে,
বিদ্রোহের গান বাজে, প্রতিটি রক্তবিন্দুতে তার সাহস জ্বলে।
ক্ষুদিরাম বসু—নিঃসীম বীরত্ব, অমর দেশপ্রেম,
তার নাম উচ্চারিত হয়, বিদ্রোহী ছন্দে, তরুণ হৃদয়ে চিরন্তন পীর।

জেলখানার রাতগুলো, বোমার পরিকল্পনা, দমবন্ধানো পাল,
সব ইতিহাসে বাজে তার নাম, চিরন্তন অগ্নিপথের ঝলক।
ছদ্মবেশে হেঁটে, গোপনে বোমা রেখে,
প্রতি পদক্ষেপে বাজল স্বাধীনতার তরঙ্গ, অমর যোদ্ধার সঙ্গীত।

গ্রেপ্তারের ধাক্কা, আদালতের কঠোর বিচার,
ফাঁসির রশিতে বাঁধা, তবু মাথা উঁচু, অম্লান তার চরিত্র।
সবকিছু ছাড়াই, হাসিমুখে বিদায় জানিয়ে,
ক্ষুদিরাম বসু হয়ে উঠল ইতিহাসের অমর বিজয়।

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম—নিঃসীম সাহস, নির্ভীক বীরত্ব,
তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ, যুবসমাজের প্রেরণা, চিরন্তন দ্যুতি।
আজও বাজে নদী, শহর, গ্রাম, প্রতিটি পথের কণ্ঠে,
“ক্ষুদিরাম বসু—শহীদ, বীর, অমর বিপ্লবী!”
-------------------------------------------------------


০৩-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।