আয়না ১
- মোমেন চৌধুরী

শহরের এক কোণায় ছিল এক অদ্ভুত দোকান—নাম আয়নার দোকান।
এই দোকানে কোনো সাধারণ আয়না বিক্রি হতো না। বলা হতো, এখানে ঢুকলে মানুষ নিজেকে যেমন, তেমনই দেখতে পায়।

একদিন এক লোক ঢুকল। বাইরে থেকে সে খুব ধার্মিক, খুব সচেতন, খুব জ্ঞানী বলেই পরিচিত।
দোকানদার তাকে একটি আয়নার সামনে দাঁড় করাল।

লোকটা তাকিয়ে চমকে উঠল।

সে দেখল—

তার জিহ্বা খুব লম্বা, কারণ সে অন্যের ব্যাপারে কথা বলতে ভালোবাসে।

তার চোখ দুটো অদ্ভুত রকম বড়, কারণ সে সবসময় অন্যের ভুল খুঁজে বেড়ায়।

তার কান দুটো ভারী, কারণ নসিহত ঢুকলেও ভেতরে পৌঁছায় না।

আর তার বুকের মাঝখানে ছোট্ট একটা হৃদয়—কারণ সে নিজেকে ঠিক করার চেয়ে অন্যকে ঠিক করতে বেশি ব্যস্ত।


লোকটা রেগে গিয়ে বলল,
“এই আয়না ভাঙা! এটা আমাকে অপমান করছে!”

দোকানদার শান্তভাবে বলল,
“আয়না ভাঙা না। এখানে কেউ সুন্দর বা কুৎসিত হয় না—
এখানে শুধু সত্যটা দেখা যায়।”

লোকটা চুপ করে বেরিয়ে গেল।
সেদিন সে দোকান থেকে কিছু কেনেনি।

কিন্তু অনেক দিন পর, রাতের অন্ধকারে,
যখন কেউ দেখছিল না—
সে আবার ফিরে এসেছিল।

এবার সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিল,
“আমাকে বদলাতে সাহায্য করো।”

দোকানদার হাসল।
কারণ যে মানুষ নিজের দোষ দেখতে শেখে,
তার জন্যই আয়নাটা কাজ করে।


১৬-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।