আয়না ২
- মোমেন চৌধুরী
লোকটা আবার যখন দোকানে ফিরল, তখন দোকানটা আগের মতো ছিল না।
আয়নার পাশে এবার একটি দরজা দেখা যাচ্ছিল—দরজায় লেখা:
“যে নিজের দোষ মানে, শুধু সেই ঢুকতে পারবে।”
লোকটা দ্বিধা করল।
কারণ দোষ দেখা সহজ,
কিন্তু দোষ মানা কঠিন।
তবু সে দরজাটা খুলল।
ভেতরে ঢুকে সে আর কোনো আয়না দেখল না।
দেখল—একটা টেবিল,
একটা কলম,
আর একটা খাতা।
খাতার প্রথম পাতায় লেখা ছিল:
“যে দোষটা তুমি অন্যের মাঝে সবচেয়ে বেশি দেখো,
সেটাই তোমার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।”
লোকটা লিখতে শুরু করল।
সে লিখল—
আমি কথা বেশি বলি।
আমি মানুষকে বিচার করি।
আমি নসিহত শুনি, কিন্তু মানি না।
আমি নিজেকে ঠিক মানুষ ভাবি।
লিখতে লিখতে তার হাত কাঁপছিল।
কারণ প্রথমবার সে কাউকে নয়—
নিজেকে অভিযুক্ত করছিল।
হঠাৎ দোকানদার বলল,
“এখন খাতাটা বন্ধ করো।”
লোকটা বলল,
“এখন কী হবে?”
দোকানদার উত্তর দিল,
“এখন আর দেখার কিছু নেই।
এখন শুরু হবে কাজ করা।”
লোকটা ফিরে গেল।
সে আর কারও দোষ খুঁজে বেড়ায় না।
সে জানে—
আয়না দেখার দরকার হয় শুধু তখনই,
যখন নিজের চেহারাটা ভুলে যেতে বসি।
আর সেই আয়নার দোকান?
ওটা আজও আছে।
কিন্তু দরজাটা খুলে খুব কম মানুষই ঢোকে।
১৬-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।