সন্তানের করুণ গাঁথা
- মোঃ নাসির উদ্দীন
ভেঙে যায় মন, যখন দেখি জগৎ-মাঝে
একই রক্ত, তবুও ভালোবাসা ভিন্ন সাজে।
কারো তরে স্নেহ-ধারা, কারো তরে কম,
জনমের বাঁধন যেন ভরে ওঠে বিষম।
পিতা-মাতা তো আদর্শ, স্বর্গেরই ছায়া,
তবুও কেন জাগে মনে পক্ষপাতেরই মায়া?
তুলনা আর তারতম্যে বাড়ে অভিমান,
অলক্ষ্যে সন্তান-হৃদয়ে বাজে দুঃখের তান।
যদি সেই ব্যথা জমে, হয়ে ওঠে ভার,
অভিশাপ ঝরে মুখ হতে নিষ্ঠুর আকার।
আহত সন্তানের বাণী তীব্র, তীক্ষ্ণ ছোরা,
পিতা-মাতার ভাগ্য-আকাশে নামে কালো ঘেরা।
যে হাত ধরে শেখালো পথ, যে দিল আশ্রয়,
সেই হাতেই কেন তবে অমঙ্গল ভয়?
সন্তানের অভিশাপে যখন কাঁপে ধরা,
আল্লাহর আরশ তখন কেঁপে ওঠে ত্বরা।
আল্লাহর অসন্তুষ্টি
পিতা-মাতা হলো মহা নিয়ামত এই ভবে,
তাঁদের হৃদয়ে আঘাত, ক্ষতি হয় তবে।
আল্লাহ তখন অখুশি হন, ফিরিয়ে নেন মুখ,
কারণ তিনি চান না, কারো লাগুক দুঃখ।
যে দু'জনার সেবা তরে ছিল জান্নাতের চাবি,
তাঁদের দুঃখে, ভাগ্য তখন হয় ধ্বংসের দাবি।
ন্যায় বিচারক খোদা, তিনি সব দেখেন,
অভিশাপের ফল তাই জীবনেই মেলে।
ভালোবাসা দাও প্রাণ ভরে, করো ক্ষমাপণ,
তবেই আল্লাহর রহমত হবে বরিষণ।
উপদেশ
হে সন্তান, তুমিও থেকো ধৈর্যশীল,
বিধির বিচার যেন না হয় তড়িৎগতিশীল।
পিতা-মাতা ভুল করে যদি, করো নম্র নিবেদন,
তাঁদের মঙ্গল কামনায় ভরে তোলো জীবন।
ক্ষমা চেয়ে নাও, ক্ষমা করো, দূরে থাকো পাপ,
তবেই ঘুচবে জীবনের যত অভিশাপ।
১৮-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।