কেমন রুপান্তর
- মোঃ নাসির উদ্দীন

চেনা মেয়েটি ছিল যেন এক অচেনা রাজকুমারী,
বিয়ের আগে নিখুঁত প্রতিমা, শান্ত এবং ভারী—
স্নিগ্ধ হাসিতে মায়াবী মখমল, গুণের নেইকো শেষ,
প্রশংসা ছাড়া জোটে না যে তার অন্য কোনো রেশ।

বাবার ঘরে লক্ষ্মী মেয়েটি, সব দোষ ত্রুটিহীন,
সেদিন তাহার তুলনা মেলে না, রূপে গুণে অমলিন।
আদরে আদরে বেড়ে ওঠা লতা, স্নিগ্ধ সুবাস ছড়ায়,
স্বপ্নের মতো রঙিন আবেশে মনকে শুধু জুড়ায়।

সেই মেয়েটিই যখন একদিন বধূ সেজে ঘর আসে,
যে হাতে ছিল মায়ার পরশ, সেই হাত আজ পাশে—
বদলে যায় কেন সব ব্যাকরণ, বদলে যায় সব সুর?
খুঁজে পায় লোকে সহস্র দোষ, শান্তি হয় যে দূর।

শাশুড়ির চোখে অবাধ্য বউ, ননদিনী খোঁজে ভুল,
যে চুলে ছিল বকুল মালা, আজ কেন সেই চুল—
স্বামীর ঘরেতে এসেই যেন সে সব গুণ হারালো।
অশান্তি আর ঝগড়া বিবাদে আঁধার করে আলো?

হয়তোবা দোষ পরিবেশেরই, নয়তোবা দৃষ্টির,
বিয়ের আগে যে ছিল অনন্য, আধার সকল সৃষ্টির।
নয়তো মেয়েটি মানাতে গিয়েই হারিয়েছে নিজ সত্তা,
বউ হয়ে কেন সে-ই হয়ে যায় কষ্টের রাজপথটা?

আদর আর শাসনে যে ছিল ঘরের সোনার পাখি,
মানুষ কি তবে বদলায় শুধু, নাকি আমরাই বুজি আঁখি?
পরের ঘরেতে কেন আজ তার দোষের তালিকা বড়?
নাকি চেনা মানুষটিই অচেনা হয়ে আজ দিচ্ছে হানা দড়?


১৮-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026