নারী লোভ
- অনিরুদ্ধ রনি

নারীলোভ মানুষকে সিম্প বানায়, ব্যক্তিত্বহীন বানায়, তার বংশধারাকে নিম্নগামী করে।

নারী হলো ফুলের মতো, গয়নার মতো, মিষ্টান্নের মতো, শরাবের মতো, পোশাকের মতো। এটা আপনাকে শান্তি দেয়, আনন্দ দেয়, রিফ্রেশমেন্ট দেয়, সুরক্ষা দেয় কিন্তু আপনাকে বা আপনার জীবন নিয়ন্ত্রণের ভার বা ভাগ কিছুতেই নারীর হাতে থাকা উচিৎ নয়। এমনটা হলে আপনি নিশ্চিতভাবেই পথভ্রষ্ট হবেন। আর যারা নারীলোভে পতিত বা আক্রান্ত নারী সহজে তাদের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এমন পুরুষ আকাশের তারকা হলেও সে এক মূহুর্তে খসে পড়তে পারে।

আপনি পুরুষ হিসেবে কতোটা মজবুত সেটা বোঝার প্রাথমিক উপায় হলো আপনি কামের জ্বালা এবং বীর্যের চাপ কতোটা সহ্য করতে পারেন। চিত্ত যদি আপনার লিঙ্গের মতোই অস্থির আর স্পর্শকাতর হয়ে থাকে তাহলে আপনি এখনো ঠিকঠাক ‘পুরুষ মানুষ’ হতে পারেননি। শরীরে বীর্য তৈরি হলেই তা স্খলনের জন্য অস্থির হয়ে যাওয়া, এটা পশুসুলভ বৈশিষ্ট্য, মানবসুলভ নয়। একজন ব্যক্তিত্ববান পুরুষ শুধু কামের জ্বালা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য বীর্যপাত করেন না, বরং তিনি বীর্যপাত করেন তার ব্যক্তিত্বের ধারা যথাযথভাবে জারি রাখার জন্য এবং সেটি উপযুক্ত পাত্রে।

আপনি যতো ইতর পাত্রে বীর্যপাত করবেন আপনার পরবর্তী বংশধারা ততোই ইতর আর মেরুদণ্ডহীন হতে থাকবে।

ব্যক্তিত্ববান পুরুষ হলো চাঁদের মতো, সূর্যের মতো। শতো কলঙ্ক, শতো বদনাম করেও মানুষ তাকে ছুঁতে চায়। সবাই জানে তার সংস্পর্শে গেলে তেজে পুড়ে যাবে তবুও তার ব্যক্তিত্বের অমোঘ টান থেকে কেউ নিজেকে রেহাই দিতে পারে না। অথচ সে নিজের অবস্থান থেকে নড়ে না এক চুলও। কারো দিকে ফিরে তাকাবারও রুচি নেই তার। তার আলোয় কে আলোকিত হলো আর কে পুড়ে ভস্ম হয়ে গেলো সেটি দেখারও তার ফুরসত নেই কোনো।

একজন দ্বীনদার পুরুষ ঠিক ততোটাই দ্বীনদার যতোটা মজবুত তার ব্যক্তিত্ব বা পুরুষত্ব। আজকাল অনেকে দ্বীনের ফাঁকফোকর খুঁজে নিয়ে নিজের ব্যক্তিত্বহীনতা আর সিম্পিংকে দ্বীনের লেবাস পরায়। এরা ভন্ড, কামুক আর ধোঁকাবাজ। ব্যক্তিত্বহীনতা ধরা পড়ার পর দ্বীনী লেবাসও এদের খসে পড়ে সত্ত্বর।

প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমার বীর্য ধারণের উপযুক্ত পাত্র পাবো কোথায়?

উত্তর হলো, এমন পাত্র খুঁজতে গেলে পাবেন না।
বীর্যপাত ছাড়াও পুরুষ হিসেবে দুনিয়াতে আপনার আরো অনেক কাজ আছে, দায়িত্ব আছে, সেসবে মনযোগ দিন। আপনার ব্যক্তিত্বের আলো ছড়াতে থাকুক। আপনার পুরুষত্বের শক্তি পৃথিবীর উপকারে কাজে লাগুক। দেখবেন আপনাতে আত্মাহুতি দিতে পঙ্গপালের অভাব নেই।

আর আপনি দাগী জেনেও যে ভালোবাসবে, কঠিন জেনেও যে নিজেকে নরম তুলার মতো আপনার পদতলে বিছিয়ে দেবে, আপনি আগুন জেনেও যে নিজেকে পোড়াতে তৈরি হয়ে যাবে, সে-ই আপনার বীর্য ধারণের উপযুক্ত পাত্র।

আমি কথা বলছি পুরুষত্ব আর ব্যক্তিত্ব নিয়ে। যদি কেউ এটাকে নারীবিদ্বেষী আলাপ বলে ভেবে থাকেন তাহলে পুরো পোস্টের যেখানে যেখানে ‘নারী’ শব্দ আছে সেখানে ‘পুরুষ’ শব্দ বসিয়ে নিজ দায়িত্বে পড়ে নেবেন। ব্যাস!

- #অনিরুদ্ধ_রনি #aunirudh_roney


০৪-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।