পত্র মিতালী
- অনিরুদ্ধ রনি

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে
কোন এক শীতের বিকেলে
এক কাপ চা হাতে নিয়ে পড়ছিলাম
প্রিয় এক ম্যাগাজিন,
চোখ জোড়া আটকে গেলো শেষ পৃষ্টায়
বন্ধুত্বের প্রত্যাশায় নাম ও ঠিকানা দিয়ে কিছু বিজ্ঞাপন,

শখ এর জায়গায় লিখা আছে
কারো প্রেম করা,কারো বই পড়া,
আর কারো পত্রমিতালী করে বন্ধুত্ব করা
'রিক্তা' নামটা ভিষণ পছন্দ হলো আমার
তার ও শখ পত্রমিতালী করে বন্ধুত্ব করা
আর আমারও ঠিক তাই।

হৃদয়ের উষ্ণ আবেগ দিয়ে লিখে দিলাম 'রিক্তা' নামের সেই ঠিকানায় একটি চিঠি,
কতো ব্যাকুল অপেক্ষার পর আসলো
সে চিঠির প্রতিউত্তর,
অদৃশ্য ভালোলাগার বন্যায় ভেসে গেলো তনুমন
সূচনা হলো পত্র বিনিময়ের সাথে সাথে
হৃদয়ের ভালোলাগার বিনিময়।

ডাকপিয়নের পথ চেয়ে বসে থাকা,
মিষ্টি সোঁদা কাগুজে গন্ধভরা হলুদ খামের চিঠির আকুল প্রতীক্ষায় কেটে যেতো সময়,
ষোড়শী মনের বোকা বোকা অনুভূতি নিয়ে
লিখা হতো কতো শত চিঠি
শব্দে সব্দে গাঁথা ভালোলাগা, ভালোবাসার কথা
কখনো ভালোবাসার চেয়ে ঢের বেশি কিছু।

একদিন বেলাশেষে ভিন্ন হাতের লিখা এক চিঠি
জীবন গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিলো
কোন এক অজানা কারনে পত্রবন্ধু আর লিখবে না আমায় জানিয়ে দিলো,
শীত ফুরিয়েও বসন্তের কৃষ্ণচূড়া রাঙা কোন বিকেলে
প্রাণের আকুলতা ভরা,
বেলী বা বকুল ফুলের সুবাসিত চিঠি আর এলো না কোনদিন।

হৃদয়ে থেকে থেকে স্মৃতিদের মৌন মিছিল হয়,
স্বযত্নে রাখা পুরনো সেই হলদে হয়ে যাওয়া বিবর্ণ চিঠি
মাঝে মাঝে বের করে হাত বুলাতে ইচ্ছে করে
ইচ্ছে করে চোখ বুজে ঘ্রান নিই প্রিয় চেনা গন্ধটির।


অনিরুদ্ধ রনি


০৫-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

০৫-০১-২০২৬ ১২:৫১ মিঃ

এখান লেখা চিঠির জন্য যে প্রত্যাশা সেটি হয়তো আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কবিতাটি সুন্দর।

অনিরুদ্ধ রনি
০৭-০১-২০২৬ ১৩:০০ মিঃ

অসংখ্য ধন্যবাদ ????