কনক কিংকরী
- বোরহান আজমীর
শ্বেতপদ্মস্নাতা এক কনক কিংকরী
দাঁড়িয়ে থাকে অদ্রিকার ধ্যাননিবিষ্ট ধারে,
তার অলকযূথিতে জলদ-গম্ভীর নৈঃশব্দ্য,
কপোলে প্রান্তছিন্ন কেয়ূরের রেখা,
দৃষ্টিতে মৃত দেবতার শোক।
সে জানে, তার দিনলিপি রচিত হয় না মহাকাব্যে।
প্রেম, এখানে একটি দণ্ডধারী প্রহর
যা কখনো আসে না,
আসার অভিনয় করে কেবল।
তার পাশুলি বাজে না বহুকাল,
ম্লান হয়েছে কণ্ঠনিলয়ের স্বর,
তবু সে দাঁড়িয়ে থাকে
যেন এক অবিচল অভিসারিকা,
যার অভিসার কোনোদিন ঘটেনি।
পদ্মরাগা দীপ্ত পায়ে সে হাঁটে শূন্যতার রথপথে,
নিভৃত দত্যিদানো স্মৃতির গন্ধে মিশে
তবু সে বিকায় না নিজেকে।
বিকায় না কোনো নৈবেদ্যের দামে।
তার কাছে জীবন শুধু এক আয়ুধ
যা রৌদ্রে চক্চক্ করে,
যা কোনো কাব্যের পঙ্ক্তি নয়,
বরং রণচণ্ডীর অব্যক্ত উচ্চারণ।
সে নারীর নাম কেউ জানে না।
তবু সময় জানে তাকে,
জানে মৃতরাও।
জানে সেই প্রমাথিনীরা যারা রাত্রির ভিতর দিয়ে হেঁটে গেছে
কনক বউলি পরে নয়,
কিন্তু এক দগ্ধ, দগ্ধ অতীত বয়ে।
১১-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।