বাতাসের বধূ
- বোরহান আজমীর
তুমি কি জানো আমি বাতাসের বধূ?
আমি জানি না আমার স্বামী কোন গ্রহে থাকে,
শুধু জানি তার ডাক আসে-সন্ধ্যায়, দিনে, রাতে…
আমি পলাশের অগ্নিতরঙ্গ, শিমুলের রক্তমাখা হাসি।
আমি কেতকীর গন্ধে জর্জর রজনী, মালতীর নীরব ছায়া
জুঁইফুলের কানে কানে বলি-
“আজও সে ফেরেনি…তুমি কি তার পথে সুবাস ছড়ালে?”
আমি বাতাসের বধূ।
আমি বাঁশবনে শনশন সুর তুলে জাগিয়ে তুলি জ্যৈষ্ঠের দুপুর।
আমি কৃষাণীর খোলা চুলে লেপ্টে যাই,
আমার কণ্ঠে বাজে আলতা লাগানো সিঁথির রূপকথা,
আমি চাঁদ সদাগরের নৌকার পালে ঢেউ তুলি-
তাকে নিয়ে যেন সে ভেসে যায় চাঁদের ঘাটে।
আমার স্বামী কি সেখানে থাকে?
আহ ! জানি না।
আমি বাতাসের বধূ।
ধানক্ষেতের ভেতর আমি রমণের রাগিণী।
ঝংকার তুলি, ঘাসের গায়ে গায়ে বেজে ওঠে তার সুর।
আমি মেঘের পালে দোল দিই। ঝরঝরিয়ে বর্ষণ ঝরাই।
কৃষাণীর পাকা ধান ভিজে ওঠে-
সে ভাবে, এ বুঝি ঈশ্বরের আশীর্বাদ!
সে জানে না, আমি তার শ্রান্ত কপোলে ঠাণ্ডা হাত রাখি।
তাকে শিখিয়ে দেই প্রতিকূলে মানিয়ে নেবার পাঠ।
আমি বাতাসের বধূ।
আমি গানের দলপতি নই, আমি গানের পথিক।
পাখিদের গলায় গুঁজে দিই চিঠির পংক্তি-
“তুমি কি এখনও সেই নদীর ধারে বসো?”
তারা ওড়ে, তারা ডাকে, তারা কাঁদে।
আমার কথাগুলো তুমি শুনতে পাও কি?
আমি বাতাসের বধূ।
আমি কখনও মধুমাসের মাদক, কখনও আশ্বিনের আর্তি।
আমি কখনও দুলে উঠি বটমূলের নিচে প্রেমিকের কৌতুকে,
যুগলকে দেখে বিরহে ফাটি আবার বলি,
“প্রেমিকের মিছে প্রেমে গলো না। আমার স্বামীকে তুমি দেখেছো?
সে কোথায় থাকে?”
আমি বাতাসের বধূ।
আমি স্বাধীন বাংলার কেতন ওড়াই।
আমি বলি- “এই মাটি দাসত্বের নয়,আমি কারো দাসী নই,
এই আকাশ কারো ছায়া নয়।“
যখন কালবৈশাখী হয়ে ছুটে যাই-
যে ঘর সে আমার নয়, সে-ঘরের শাখাপল্লব আমি গুড়িয়ে দিই।”
আমি বাতাসের বধূ।
আমার কোনো ঘর নেই, তবু আমি ঘরে ঘরে হাঁটি।
আমি কারো নাম জানি না, তবু নাম ধরে ডাকি।
আমি কাঁদতে জানি না, তবুও প্রতিটা চোখে আমি জল রেখে যাই।
তুমি কি জানো আমি বাতাসের বধূ?
আমি জেগে থাকি যখন সবাই ঘুমায়।
আমি ভাঙি যখন কেউ ঠকায়।
আমি ছুঁয়ে দিই, আমি নিয়ে যাই।
আমি বধূ, আবার বিদ্রোহিণী,
আমি উড়ি আবার ঝরিও।
১৬-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।