পাথর বান্ধা পিরীত
- মোঃ তারেক মিয়া
শুনো ও পশারি কন্যে,
তোর লাইগা আমি বুকের বাঁ-পাঞ্জরটা খুঁইড়া বসত বানাইছিলাম,
অথচ তুই তো সেই ঘরে আগুনের কুন্ডলি রাইখা ভিনগাঁয়ে পা বাড়াইলি।
আরে ওরে পাষাণী, তোর মনে নাই?
সেই যে আকাল যখন নামছিল, নিজের পাতের ভাত তোর থালায় তুইলা দিছিলাম
আমি উপাস থাকছি, কিন্তু তোর মুখে হাসি ফোটাইছি।
আজ তোর বিয়ার গীত যখন ঐ পাড়ায় বাজে,
আমার মনে হয় যেন কেউ আমার কলিজাটা জ্যান্ত ধইরা টেনে ছিঁড়তাছে!
তোর বাপ নাকি আমারে ‘ছোটলোক’ বইলা গালি পাড়ল?
হ, আমি তো মাটির মানুষ, গতর খাটাইয়া খাই।
কিন্তু তোর লাইগা যে পিরীতের নদীটা বুকে বইয়া আনছিলাম,
ঐ দামী সোনার গয়না দিয়া কি হেই নদীর জোয়ার মাপতে পারবি?
তোর কপালে যে লাল সিঁদুর ঘষলি,
ঐটা কি সিঁদুর নাকি আমার বুকের তাজাল রক্ত, একবার চাইয়া দেখলি না!
বিহানের কুয়াশায় যখন আমি একলা হালের বলদ লইয়া মাঠে যাই,
তোর গায়ের গন্ধে বাতাসটা ভারী হইয়া আসে।
বুকের ভেতরটা তহন এমুন মোচড়ায়, মনে হয় জমিন ফাইট্যা দুই ভাগ হইয়া যাই,
আর আমি সেই তলে তলায়া মরি।
যাইস না কন্যা, আমায় এমুন আধমরা কইরা যাইস না।
তোর পালকির চাকা কি একবারও আমার বুকের উপর দিয়া গড়াইয়া গেল না?
যাউক গে, তুই সুখে থাকিস রে বেইমান!
তোর ঘরের বাতি যখন জ্বলব, আমার ঘরে তখন শিয়ালের ডাক শোনা যাইব।
তোর লাইগা আমার এই কান্দন বিফল হইব না,
কোনো এক মেঘলা রাতে তুইও বুঝবি
মাটির পিরীত হারাইলে রাজপ্রাসাদেও জোনাকি জ্বলে না!
০৪-০২-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।