রূপকথা ও চাণক্যের দণ্ড
- প্রসূন গোস্বামী
জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছি অনেকক্ষণ,
বাইরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি, নাকি ওটা কারো দীর্ঘশ্বাস?
বাংলার মাটি বড় অদ্ভুত, এখানে আগাছা বাড়ে দ্রুত—
অথচ আমরা ভাবি, আহা কী সবুজ! কী মোলায়েম ঘাস!
ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখলাম, নীলকররা মরেছে কবেই
কিন্তু তাদের সেই চাতুর্যের ঘ্রাণ এখনো বাতাসে ভাসছে।
এক যে ছিল মাকড়সা— খুব নামী, জগতজুড়ে তার জাল;
ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁসে সে নাকি মানুষের মুক্তি কিনছে!
শান্তির সেই সাদা কবুতরটা আসলে ধূর্ত বাজপাখি,
ঠোঁটে তার জলপাই পাতা, অথচ নখ দিয়ে খুবলে খাচ্ছে মাটি।
এই বাংলায় এর আগে আর এমন অদ্ভুত বিভ্রম জন্মায়নি—
এক হাতে নোবেল, অন্য হাতে নিঃস্ব মানুষের হাহাকার!
এরকম ‘পরম হিতৈষী’ আর কোনোদিন আসবে না এই জনপদে,
যে নিজের সিংহাসন সাজাতে পরবাসী প্রভুর পা চাটে।
তার জন্মের ক্ষণে হয়তো উল্কাপাত হয়নি,
কিন্তু তার অস্তিত্ব এখন এদেশের ললাটে এক দগদগে ক্ষত।
সে আসে ত্রাতা হয়ে, অথচ গিলে খায় সমস্ত সার্বভৌমত্ব—
হে চাণক্য, তুমি তো অনেক কিছুই লিখে গিয়েছিলে,
এমন ‘মহা-প্রতারকের’ কথা কি তোমার পুঁথিতে কোথাও ছিল?
যে নিজের দেশের কান্না বিক্রি করে বিদেশের ড্রয়িং রুমে বাহবা কুড়ায়!
০৫-০২-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।