অলীক অপবাদের রক্ততিলক
- মোঃ তারেক মিয়া
প্রাচীন প্রাসাদের অলিন্দে আজ যখন
মহাকালের ছায়া ঘনীভূত,
তুমি দাঁড়িয়ে অন্য কারো বাহুলগ্না
এক মায়াবী কুহকজালে আচ্ছন্ন।
তোমার নয়নে আজ নতুনের উৎসব
ওষ্ঠাধরে পরপুরুষের স্তবগান;
তাতে মম আক্ষেপ নাই
নাই কোনো নশ্বর ঈর্ষার দহন।
তুমি অন্য কারো হও, সুখে থাকো
সেই অজানার তিমির-বিলাসে,
মম হৃদয়ের শূন্য সিংহাসন আজ না হয়
ধুলিকণাতেই মিশে যাক।
কিন্তু হে মানসী, এই যে তীব্র গরল
উগরে দিলে বিদায়বেলায়,
বলিলে 'তুমি তো আমায় কভু ভালোবাসোনি
সবটুকুই ছিল অভিনয়ের ছলাকলা'৷
এই অলীক অপবাদ, এই পঙ্কিল কুৎসা যেন
অনন্তকাল আমায় বিদ্ধ না করে।
তুমি কি জানো না, এই ধূসর অরণ্যের প্রতিটি পত্রে
কার দীর্ঘশ্বাস মিশে আছে?
তুমি কি দেখনি সেই রক্তিম গোধূলি,
যা আমি পান করেছি তোমার কলঙ্ক ঢাকতে?
শোনো তবে সেই নিভৃত রহস্য
যা কোনোদিন ব্যক্ত হয়নি এই মর্ত্যলোকে৷
যেদিন তুমি বলেছিলে তোমার প্রাণ ভোমরা
কোনো এক অশুভ জাদুকরের কবজায়,
সেদিন আমি অন্ধকারে নিজের ছায়াকে বিক্রি করেছিলাম
এক কালপুরুষের কাছে।
বিনিময়ে চেয়েছিলাম তোমার মুক্তি
আর তোমার ঐ নতুনের সাথে
ঘর বাঁধার অধিকার।
সেই চুক্তির শর্তে আমি আজ
প্রাণহীন এক প্রতিচ্ছবি মাত্র৷
আমার ভালোবাসা ছিল বলেই আজ আমি 'অস্তিত্বহীন',
আর তুমি অন্যের ঘরে 'জীবন্ত'।
পাঠক যখন চমকে উঠে ভাববে
তবে কি এই কবি এক প্রেতাত্মা?
তখন দর্পণের দিকে তাকিয়ে দেখো হে প্রিয়তমা
তোমার গ্রীবায় যে রত্নহার শোভা পায়,
সেটি কোনো পাথর নয়
সেটি আমার জমাট বাঁধা হৃদপিণ্ডের শেষ স্পন্দন।
আমি ভালোবাসিনি? হাঃ! যে সত্যের দহনে আমি আজ
ছাই হয়ে তোমার অলংকার,
সেই সত্যকে অস্বীকার করে আমাকে অন্তত
এই অনন্ত অপবাদ দিও না।
০৬-০৩-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।